
আলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাফির পরিবার।
সোমবার দুপুরে উচ্চ আদালতের রায় ঘোষণার খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।
তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, আলহামদুলিল্লাহ আমি উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পেয়েছি। আজকের রায়ে হত্যা প্রকাশ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুনিদের পক্ষ থেকে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছিল বলা হয়েছিল। আজকের রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। আমাকে ও আমার সন্তানদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমি আমার তিন সন্তানের নিরাপত্তা দাবি করছি। বিগত সাত বছর আমার পরিবারের কঠোর নিরাপত্তা ছিল। আগামীতেও যেন আরও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।
ফেনীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া ৪ জনের যাবজ্জীবন এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতিকে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম (২০)।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহ-সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।
মামলার নথি ও বিবরণী অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের পরিবার থানায় আইনি পদক্ষেপ নিলে সিরাজ ও তার অনুসারীরা মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকি দেয়। নুসরাত নতিস্বীকার না করায় ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে মাদ্রাসা ভবনের ছাদে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে মুখ ও হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে টানা চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।
দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা এ হত্যাকাণ্ডে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
ওই রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ছিলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসার বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসাছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
তথ্যসূত্র: বাসস