লোডশেডিং সমন্বয় করতে নতুন উদ্যোগ সরকারের

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:৫৫


জ্বালানি সরবরাহে সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, সঞ্চালনব্যবস্থা ও জাতীয় গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ায় দেশে ঘাটতি ও লোডশেডিং বেড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী ঢাকায় লোডশেডিং সমন্বয়ের মাধ্যমে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ দেশের অন্যান্য এলাকায় সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
এতে ঢাকার বাইরের শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক শ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো বার্তায় তথ্যটি জানানো হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি এবং বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি সমস্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে উৎপাদন কমে গেছে। এর সঙ্গে সঞ্চালন ও গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
লোডশেডিংয়ের চাপ কমাতে ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। এর ফলে ঢাকায় সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহের জন্য পুনর্বণ্টন করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের ভাষ্য, এ উদ্যোগের ফলে ঢাকার বাইরের শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক শ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘসময় ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপও কমানো সম্ভব হচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের চাপ তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা। কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা গ্রাহক শ্রেণিকে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎবঞ্চিত না রেখে সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং গ্রিডের সীমাবদ্ধতা দূর করা গেলে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
এদিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট। ওই সময় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট।
ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় ঢাকার সরবরাহ সমন্বয় করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ পুনর্বণ্টনের উদ্যোগকে আপাতত স্বস্তির পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।