ইরানের পক্ষে পোস্ট : বাহরাইনে এক বাংলাদেশিসহ ৫ পাকিস্তানি গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১০ মার্চ ২০২৬, ১২:২০
প্রবাসী মোহাম্মদ ইসরাফিল মীর

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইরানের পক্ষে পোস্ট ও ভিডিও শেয়ার করার অভিযোগে এক বাংলাদেশিসহ ছয়জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে বাহরাইন পুলিশ। গ্রেপ্তার বাংলাদেশির নাম মোহাম্মদ ইসরাফিল মীর। অন্যরা পাকিস্তানি।
সোমবার বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা বাহরাইন নিউজ এজেন্সি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্নীতি দমন ও সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ তদন্ত চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বিভ্রান্তিকর’ ভিডিও ও পোস্টে ইরানের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে সমর্থন জানিয়েছে। তারা বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দৃশ্য ধারণ করে তা প্রচার করছে। এসব কর্মকাণ্ড জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমন অভিযোগে এশীয় ছয়জন নাগরিককে শনাক্ত করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদেরকে পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভিডিও, ছবি বা তথ্য অনুমতি ছাড়া প্রকাশ বা শেয়ার না করার জন্য নাগরিক ও প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করে। ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর থেকে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। 
চলতি মাসের শুরুতে বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। হামলায় বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি’র সঙ্গে সম্পর্কিত ফার্স নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক রকেট বিস্ফোরিত হচ্ছে।
সংস্থাটি দাবি করেছে, আইআরজিসির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইনের শেখ ঈসা অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে একটি কমান্ড ও স্টাফ বিল্ডিং ধ্বংস হয়েছে এবং জ্বালানির ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত একটি নৌঘাঁটি থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। 
আইআরজিসি বলেছে, ২ মার্চ সকালে মার্কিন বিমানঘাঁটিটিতে বড় আকারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। হামলায় ২০টি ড্রোন এবং ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলায় ওই মার্কিন বিমানঘাঁটির প্রধান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও সদর দপ্তর ভবন ধ্বংস হয়েছে। হামলার সময় জ্বালানি ট্যাংকগুলোতে আগুন ধরে যায় বলেও উল্লেখ করেছে তারা।
এদিকে বাহরাইনের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান বাপকো এনার্জিস তাদের কার্যক্রমে ‘ফোর্স মাজ্যর’ ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার প্রধান তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনার পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ফরাসি শব্দগুচ্ছ ‘ফোর্স মাজ্যর’ বলতে সাধারণত নিয়ন্ত্রণের বাইরের কোনো বিষয়কে বোঝানো হয়। এ ধরনের ঘোষণা দেওয়া হলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কোনো ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হলে প্রতিষ্ঠান চুক্তির দায় থেকে অব্যাহতি পায়। এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার সিত্রা এলাকায় ইরানের একটি ড্রোন হামলার পর বাপকোর তেল শোধনাগার থেকে ঘন ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। এরপরই এমন ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ওই হামলায় স্থাপনাটির কাছাকাছি এলাকায় কিছু মানুষ আহত হয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। বাহরাইনের জ্বালানি খাতের জন্য বাপকো এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশটির অন্তর্বর্তী পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ইরানের ওপর হামলা না হলে সেসব দেশে আর কোনো আক্রমণ চালানো হবে না। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এ কথা জানান।
পেজেশকিয়ান বলেন, প্রতিবেশী আরব দেশগুলো থেকে হামলা না হলে, সেখানে আর পাল্টা হামলা চালাবে না তেহরান। তিনি বলেন, ‘যেসব প্রতিবেশী দেশে ইরান হামলা চালিয়েছে, তাদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’ ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, ‘৬ মার্চ অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে—প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আর কোনো হামলা চালানো হবে না এবং সেসব দেশ থেকে ইরানের ওপর আক্রমণ না হলে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়া হবে না।’
পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইরান কোনো অবস্থাতেই আত্মসমর্পণ করবে না। তার ভাষায়, ‘ইরানি জনগণের আত্মসমর্পণের স্বপ্ন যারা দেখছে, তাদের সেই ইচ্ছা কবরেই নিয়ে যেতে হবে।