‘প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে অপদস্থ হয়ে এমন পিচ বানিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া’!

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৫ আগস্ট ২০২৬, ২৩:০৮


অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্টের পিচ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ম্যাকাই টেস্ট দুই দিনে শেষ হয়ে যাওয়ায় ভারতের পিচ নিয়ে সমালোচনাকারীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার।
ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় অভিষেক টেস্ট ম্যাচটি শেষ হয়ে যায় পাঁচ সেশনের একটু বেশি সময়ে। প্রথম দিনেই ঝড়ের গতিতে উইকেট পড়ে ১৮টি। প্রথম ইনিংসে মিচেল স্টার্ক ২২ বলে নেন পাঁচ উইকেট এবং শরিফুল ইসলাম ছয় উইকেট নিয়ে দিন শেষ করেন। পরের দিন আরও একটি উইকেট নেন তিনি। দ্বিতীয় দিনে উইকেট পড়ে ১২টি, যেখানে স্টার্ক আরও চারটি ও প্যাট কামিন্স নেন পাঁচটি উইকেট।
বাংলাদেশ তাদের দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৬৪ ও ৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়া তাদের একমাত্র ইনিংসে করে ২১০ রান। প্রাণবন্ত পিচে পেসাররাই দাপট দেখান। ইনিংস ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করে অস্ট্রেলিয়া।
ভারতের মাটিতে স্পিন সহায়ক পিচ অতীতে যে সমালোচনার মুখে পড়েছে, তার সঙ্গে ম্যাকাইয়ের উইকেটের তুলনা করে গাভাস্কার মঙ্গলবার ‘দা হিন্দু’-তে লেখা তার কলামে এই বৈষম্যকে ‘নির্লজ্জ ভণ্ডামি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
“তাহলে, অস্ট্রেলিয়ায় আরও একটি টেস্ট ম্যাচ দুই দিনেই শেষ হয়ে গেল। গত কয়েক বছরে সেখানে এমনটা চারবার হয়েছে। আর আমরা এখনও সেই ‘ট্রাম্পোলিন-বাউন্স’ পিচগুলোর কোনো সমালোচনা শুনিনি, যার ফলে এমন ফলাফল হয়। অজুহাতগুলো একের পর এক আসতেই থাকবে। ‘ওহ, গ্রাউন্ডসম্যান, দুঃখিত, টার্ফ এক্সিকিউটিভ ভুল করেছেন। তিনি আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী কাজ করেছেন, যেখানে গরম আবহাওয়ার কথা বলা হয়েছিল, তাই তিনি একটু বেশি ঘাস রেখে দিয়েছিলেন, এর ফলেই বাড়তি বাউন্স হয়েছে।
“অথবা ক্রিকেটের আরেকটি অজুহাত যে, ব্যাটসম্যানদের বাউন্স সামলানোর মতো টেকনিক ছিল না এবং এটা পিচের দোষ ছিল না। এই শেষ অজুহাতটা হয়তো কিছুটা মেনে নেওয়া যেত, যদি স্বাগতিক দলের ব্যাটসম্যানরা ভালো ব্যাটিং করত, কিন্তু যখন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরাও বড় ইনিংস খেলতে বা একটি ভালো জুটি গড়তে পারেনি, তখন এটা পিচ নিয়ে কী বলে?”
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়ে ডারউইনে প্রথম ম্যাচে চার দিন ধরে দাপট দেখিয়ে ৮ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ওই হারের পর জয়ের তাড়নায় ম্যাকাইয়ে অমন উইকেট বানায় অস্ট্রেলিয়া, মনে করেন গাভাস্কার।
“ম্যাকাইয়ের পিচ আসলে কোনো বিস্ময়কর বিষয় ছিল না। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে অপমানিত হওয়ার পর, অস্ট্রেলিয়া এমন একটি পিচ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়, যা হবে দ্রুতগতির ও বাউন্সি। আর অবশ্যই দাবি করা হবে যে, মাঠকর্মী নিজের ইচ্ছাতেই এটা করেছে, টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনাই ছিল না। আমরা সবাই জানি আসলে কী ঘটে। ব্যাপারটা হলো, ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট তাদের বোলিং শক্তির উপযোগী পিচ চাওয়ার ব্যাপারে খোলামেলা থাকে, আর অন্যদিকে পুরোনো পরাশক্তিগুলো ফিসফাস করে আর ইশারা-ইঙ্গিত দিয়ে নিজেদের প্রয়োজনমতো একটি পিচ তৈরি করে নেয়।”
অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয় টেস্ট সফরের জন্য বাংলাদেশের এত বছর অপেক্ষা করতে হওয়াটাও ভালো চোখ দেখছেন না গাভাস্কার।
“বাংলাদেশ সেই ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পায়, কিন্তু ২৩ বছর পর তাদের দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজের জন্য আমন্ত্রণ জানানো সমীচীন মনে করে অস্ট্রেলিয়া। আর সেটাও তাদের অনিয়মিত টেস্ট ভেন্যুগুলোতে। ভারতকেও ১৯৪৭-৪৮ এর উদ্বোধনী সফরের পর ১৯৬৭-৬৮ এর দ্বিতীয় সফরের জন্য ২০ বছর এবং এরপর অস্ট্রেলিয়ায় পরবর্তী সফরের জন্য আরও ১০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল।”
বলের হিসাবে ম্যাকাই টেস্ট শেষ হয় ৭৫০ বলে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম এবং সব দেশ মিলিয়ে চতুর্থ ক্ষুদ্রতম টেস্ট এটি। অস্ট্রেলিয়ায় সংবাদমাধ্যম ৭ক্রিকেটের প্রধান ক্রিকেট প্রতিবেদক টম মরিসের তথ্য অনুযায়ী, এই ম্যাচের পিচকে ‘খুব ভালো’ রেটিং দিতে যাচ্ছেন ম্যাচ রেফারি, যা সর্বোচ্চ রেটিং।
এতেও অবাক নন প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ১০ হাজার রান করা গাভাস্কার।
“পুরনো প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলোর কাছ থেকে বাহবা কুড়ানোর একটা আকাঙ্ক্ষা রেফারিদের মধ্যে সাধারণত থাকে, তাই ম্যাকাইয়ের পিচকে কোনো খারাপ রেটিং দেওয়া না হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না, যেমনটা আমরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একই ধরনের দুই দিনের ম্যাচ শেষ হওয়ার ক্ষেত্রে দেখেছি।
“কিন্তু দেখুন, ভারতে কোনো ম্যাচ তিন দিনে শেষ হলে পিচ, বিসিসিআই এবং ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ে সব ধরনের অপমানজনক প্রতিবেদন এবং ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করা হবে। এই ভণ্ডামি এতটাই নির্লজ্জভাবে করা হয় যে, তা রীতিমতো হতবাক করার মতো।”