
ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বশীলদের অর্থনৈতিক-সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, মসজিদ কিংবা ধর্মীয় উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কেউ অর্থনৈতিক-সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে চাইলে সহযোগিতা করবে সরকার।
১৪ মার্চ (শনিবার) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বশীলদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের এই প্রকল্পের শুভ সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই ‘ফ্ল্যাগশিপ’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার।
তারেক রহমান বলেন, প্রথম পর্যায়ে পাইলটিং স্কিমের আওতায় মোট ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির ও ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারে মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন এই মাসিক সম্মানী পাওয়া শুরু করেছেন আজ থেকে। পর্যায়ক্রমিকভাবে ইনশাআল্লাহ সবাইকে এই কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের জন্য সরকারের এসব অর্থনৈতিক কর্মসূচি উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, যা আমি আগেই উল্লেখ করেছি, নাগরিকদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তবে আপনাদের কাছে একটি বিনীত আহ্বান। আপনারা কেউ মসজিদে কিংবা যার যার ধর্মীয় উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেদেরকে বিভিন্ন অর্থনৈতিক-সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে চাইলে আপনাদের সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে সহযোগিতা করার।
তারেক রহমান বলেন, সম্মানিত উপস্থিতিবৃন্দ, আমরা আজ সব ধর্মের লোক এখানে একসাথে বসেছি। এটিই আমাদের বাংলাদেশের আবহমান কালের ঐতিহ্য। কেউ যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—আমরা সবাই মিলে ইনশাআল্লাহ একটি শান্তিময়, শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলব। সকলের জন্য আমরা গড়ে তুলব একটি নিরাপদ রাষ্ট্র, একটি নিরাপদ সমাজ, যা প্রতিটি শ্রেণী-পেশার মানুষের কাম্য।
প্রধনমন্ত্রী আরও বলেন, আমার বক্তব্য শেষ করার আগে আমাদের দলীয় ইশতেহারের এই কার্যক্রমটিকে সফল করার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের যে সকল ব্যক্তি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, যাদের সহযোগিতায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনে এই মেনিফেস্টোটি আলোর মুখ দেখতে পেয়েছে- তাদের সকলকে আমি জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও আন্তরিক ধন্যবাদ।