
ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে বগুড়ার শেরপুরে মাইক্রোবাস উল্টে আগুন ধরে গিয়ে একই পরিবারের তিন জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। বুধবার সকালে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছোনকা এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
হাইওয়ে পুলিশ শেরপুর থানার ওসি রইছ উদ্দিন এবং ছিলিমপুর মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই লালন উদ্দিন এ তথ্য দিয়েছেন।
নিহতরা হলেনÑ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তালুক শাহবাগ গ্রামের মৃত আমিনুল ইসলাম মুন্নুর স্ত্রী শিউলী বেগম (৪৮); শিউলির ভাই মোমিনুল ইসলাম রিন্টু (৪৫) এবং ভাতিজি তাইয়েবা খাতুন (১২)।
আহতদের কয়েকজন হলেন– ফাতেমা (১০), শহিদুল ইসলাম (৪০), তৌসিফ (৩০), তাসরিমা (২০), হেলেনা (৬০), তারিকুল ইসলাম (৩৬), আরহাম (৭) ও হামিম (৩০)।
আহত তারিকুল ইসলাম, পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, ঈদের ছুটিতে একই পরিবারের বিভিন্ন বয়সের ১৭ জন একটি মাইক্রোবাসে ঢাকা থেকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তালুক শাহবাগ গ্রামে ফিরছিলেন। শুরু থেকে চালক দ্রুতগতিতে মাইক্রোবাস চালাচ্ছিলেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছোনকা এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পৌঁছে। সে সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মাইক্রোবাসটি সড়ক বিভাজকে ধাক্কা দিয়ে উল্টে যায়। এতে গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন ধরে যায়।
পরে শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেন এবং হতাহতদের উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থলেই শিউলী বেগম, তার ভাই রিন্টু ও ভাতিজি তাইয়েবা নিহত হন। আহত হন অবশিষ্ট ১৪ জন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত চার জনকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল এবং একজনকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি রইছ উদ্দিন জানান, ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় মাইক্রোবাসের চালক ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন।
শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ইন্সপেক্টর বকতিয়ার উদ্দিন জানান, আহতদের মধ্যে চার জনকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত তারিকুল ইসলাম আরও জানান, মাইক্রোবাস উল্টে তাদের পরিবারের তিন জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হওয়ায় ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।