ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ঈদুল ফিতরের জামাতের জন্য প্রস্তুত

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৮ মার্চ ২০২৬, ২৩:৩৭


নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ  কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় ঈদগাহ ময়দানে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের  জামাত। ঈদের জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। জামাতে ইমামতি করবেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
ঈদ জামাতকে ঘিরে শোলাকিয়ায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সার্বিক নিরাপত্তায় বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার। মুসল্লিদের সুবিধার জন্য ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে দুটি স্পেশাল ট্রেন আসা-যাওয়া করবে। 
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অন্য সব মাঠের মতো নেই কোনো শামিয়ানা টানানোর কাজ। এটিই এই ঈদগাহ মাঠের অন্যতম বৈশিষ্ট। খোলা আকাশের নিচে যুগ যুগ ধরে এ মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ  ঈদুল ফিতরের  জামাত। এরই মধ্যে দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করাসহ মাঠের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। এবারও শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ঈদুল ফিতরের জামাতে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করছে আয়োজকরা।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা  বলেন, ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে । মুসুল্লিদের সুবিধার জন্য ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে শোলাকিয়া স্পেশাল নামের দু’টি বিশেষ ট্রেন জামাতের আগে ও পরে চলাচল করবে ।জামাতকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন জানান, চার স্তরের নিরাপত্তার পাশাপাশি, মাঠে থাকবে পুলিশের পাশাপাশি  র্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনি ও সাদা পোশাকের পুলিশ। এছাড়াও মাঠের বিভিন্ন প্রবেশ পথে থাকছে আর্চারি ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ তল্লাশী করা হবে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। থাকবে মাঠজুড়ে ড্রোনের নজরদারিও।
জানা যায়, সুদূর ইয়ামেন থেকে ইসলামের ঐশী বাণী প্রচারের উদ্দেশ্য এদেশে আসা শোলাকিয়া জমিদার বাড়ির পূর্ব পুরুষ শাহ সূফী সৈয়দ আহমেদ (র.)'র হাতে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের গোড়াপত্তন হয়। আর তার ইমামতিতে ১৮২৮ সালে অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতরের জামাতে শোলাকিয়ায় সোয়া লাখ মুসল্লি এক সাথে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’। কাল পরিক্রমায় উচ্চারণ  বিবর্তনের ফলে এ ঈদগাহ ময়দানটি এখন শোলাকিয়া নামেই সমধিক  পরিচিত। তবে তারপর থেকে স্মরণকালের প্রতিটি ঈদুল ফিতরের জামাত আদায়ে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ছয় থেকে সাত লাখ দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লির ঢল নামবে, এবারও এমনটিই প্রত্যাশা আয়োজকদের।
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের বিএনপি দলীয় সাংসদ মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, সুদূর ইয়ামেন থেকে ইসলামের ঐশী বাণী প্রচারের জন্য এদেশে আসা শাহ সুফী সৈয়দ আহমেদের হাতে উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের গোড়াপত্তন হয়। আর এ গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিবছর দেশ-বিদেশের ৬ লাখ থেকে ৭ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদুল ফিতরের জামাত আদায় করে থাকেন।