
যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে মরদেহ বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটি। বিমানবন্দর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
রবিবার (৩ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে করে শনিবার সন্ধ্যায় লিমনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান।
প্রসিকিউটরদের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লিমনের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাকে বেধে রাখা হয়েছিল। মোবাইল ফোনের লোকেশন ও গাড়ির জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে গত ২৪ এপ্রিল একটি সেতু থেকে লিমনের এবং ২৬ এপ্রিল পাশের একটি জলাশয় থেকে বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার কয়েকদিন পর একটি সোয়াট টিম সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহকে তার বাবা-মায়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে আদালত তাকে জামিনহীন কারাদণ্ড দিয়েছে। হিলসবরো কাউন্টির বিচারক লোগান মারফি নির্দেশ দিয়েছেন যে, অভিযুক্ত হিশাম কোনোভাবেই ভুক্তভোগীদের পরিবার বা সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।
গত ৩০ এপ্রিল নিহত লিমনের জানাজার নামায ফ্লোরিডার টাম্পার ইস্তাবা ইসলামিক সোসাইটি অফ টাম্পা বে এরিয়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় লিমনের সহপাঠী, আত্মীয়, মায়ামিস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল, গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।
এদিকে, বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নিহতের পরিবারের কাছ থেকে সম্মতি নেওয়া হয়েছে। পিনালেস কাউন্টির মেডিক্যাল এক্সামিনারকে মরদেহ একই ফিউনারেল হোমের কাছে হস্তান্তরের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। মরদেহটি দ্রুততম সময়ে দেশে পাঠানোর জন্য ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মায়ামিস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল একযোগে কাজ করছে।