বিদ্যুতের জন্য সারা দেশে হাহাকার, আরও বাড়ার শঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৯ জুন ২০২৬, ২৩:৩৭


তীব্র দাবদাহের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। এই বিদ্যুৎ সংকটের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র অভাব, জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি এবং ঝড়-বৃষ্টির কারণে সাময়িক বিপর্যয়। 
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রোববার সারা দিন গড়ে লোডশেডিং ছিল ২ থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট। এর আগে মে মাসে সারা দেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং হয়েছিল। বর্তমান সরকারের সময়ে দেশে বিদ্যুতের এই সংকট চিন্তায় ফেলেছে সংশ্লিষ্টদের। গরম আরও বাড়লে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আওতার বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ঢাকায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু জায়গায় সামান্য লোডশেডিং হয়। যা এখনো সহনীয় পর্যায়ে। তবে ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি বেশ নাজুক। বহু জেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ময়মনসিংহের শিল্প ও কৃষিপ্রধান এলাকায় দৈনিক গড়ে ১২-১৪ ঘণ্টা থাকে বিদ্যুৎহীন। সারা দেশে বিদ্যুতের জন্য চলছে হাহাকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকায়ও লোডশেডিং করার চিন্তা করছে সরকার। ঢাকায় লোডশেডিংয়ের আগে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিতে চায় বিদ্যুৎ বিভাগ। যদিও ঢাকায় লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী।
এদিকে, সার কারখানা বা অন্য কোনো খাতে গ্যাস কমিয়ে বিদ্যুতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ময়মনসিংহ এলাকায় মারাত্মক লোডশেডিং কমাতে ইউনাইটেড পাওয়ার কোম্পানির দুই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
রোববার সংসদ সচিবালয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ওই সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সচিবসহ বিভিন্ন সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন বিকালে বিদ্যুৎমন্ত্রী  বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ। অন্য একটিতে উৎপাদন কম হচ্ছে। তাই লোডশেডিং বেড়েছে। তবে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে খুলনার ৩০০ মেগাওয়াটের ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে— অর্থ সংকট, গ্যাস সংকট এবং কয়লাভিত্তিক দুই কেন্দ্র ঠিকমতো চালু না থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া পিডিবি এবং বিতরণ কোম্পানির মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও রয়েছে। সবকিছু মিলে গত ৫ বছরে এমন পরিস্থিতি হয়নি বিদ্যুৎ খাতে।
ময়মনসিংহের ভালুকার বড়াই এলাকা থেকে রবিন জানান, ওই এলাকায় দিনে ৪-৫ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে না। রাতে কখন বিদ্যুৎ আসে তা বলা কঠিন। এই গরমে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় সেখানকার ব্যবসা-বাণিজ্য একেবারে লাটে উঠেছে। টেক্সটাইল এবং বিভিন্ন কৃষি খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। রাজধানীসংলগ্ন কেরানীগঞ্জের সাবান ফ্যাক্টরি এলাকার বাসিন্দা সোহেল আহমেদ জানান, সেখানে প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হয়। তার প্রশ্ন, রাজধানীতে কোনো লোডশেডিং নেই। কিন্তু রাজধানীর পাশের থানায় ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং কেন? চট্টগ্রামের লোহাগড়া থেকে ইমন আহমেদ জানান, গরমে এলাকার অবস্থা ভয়াবহ। বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। কখন বিদ্যুৎ আসে তার জন্য আমরা তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করি।