ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে স্পিকার,বিএনপি মহাসচিব ও বিরোধীদলীয় নেতার শোক 

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১২ জুলাই ২০২৬, ২২:৫৯

সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। 
রোববার (১২ জুলাই) সকালে এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বিএনপি মহাসচিবের শোক
বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, সাবেক স্পিকার, সাবেক মন্ত্রী, ‘৫২-এর ভাষাসৈনিক ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।    
রোববার (১২ জুলাই) এক শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, তার (জমির উদ্দিন সরকার) মৃত্যুতে দেশ হারালো কীর্তিমান একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে। রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হলো গভীর শূন্যতা। ব্যারিস্টার মরহুম জমির উদ্দিন সরকার তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে যেভাবে নিবেদিত থেকেছেন সেজন্য দেশবাসী তাকে চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে তিনি এদেশে সংসদীয় রাজনীতিতে যোগ করেছিলেন এক ভিন্ন মাত্রা। বিভিন্ন সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তার অগ্রণী ভূমিকা দেশবাসী কখনও বিস্মৃত হবে না। 
তিনি আরও বলেন, তার সমগ্র রাজনৈতিক জীবনে শেরেবাংলা ফজলুল হক থেকে শুরু করে শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সহকর্মী হিসেবে রাষ্ট্র ও সমাজে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ছিলেন সমকালীন রাজনীতির এক জীবন্ত ইতিহাস। তার মৃত্যুতে দেশে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গ, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বিরোধীদলীয় নেতার শোক
সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (১২ জুলাই) দেওয়া এক শোকবার্তায় ডা. শফিকুর রহমান মরহুমের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন দেশবরেণ্য ও খ্যাতিমান সিনিয়র আইনজীবী। একই সঙ্গে একজন পরিচ্ছন্ন ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ হিসেবে দীর্ঘদিন অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে তিনি তার পেশাগত ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দলমত নির্বিশেষে তিনি সবার কাছে সমাদৃত ও শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দসহ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি তিনি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি বিভিন্ন সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও রাজনৈতিক পরামর্শ দিয়েছেন।’
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মহানুভবতার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের আইনি লড়াইয়ে তিনি অন্যতম প্রধান আইনজীবী হিসেবে আদালতে দাঁড়িয়েছেন। অত্যন্ত সংকটের সময়েও তিনি কোনো ধরনের পারিশ্রমিক বা ফি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি সবসময় বলতেন, ‘নিপীড়িত ও মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার নৈতিক দায়িত্ব।’ তার এই নিঃস্বার্থ অবদান ও আইনি সহযোগিতা আমরা সবসময় কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করব।’
ডা. শফিকুর রহমান মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার সকল মানবিক ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। একই সঙ্গে তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, অনুসারী ও সহকর্মীদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।’ 

এর আগে রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। অসুস্থতার কারণে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৬১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকারের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।
উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।