
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে আরও একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় ২০ সেকেন্ডের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলামকে এক তরুণীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে টেবিলের ওপর রাখা সংসদ সদস্যের পরিচয়পত্রে ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ’ এবং ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ’ লেখা দেখা যায়। পরিচয়পত্রে গাজী নজরুল ইসলামের ছবি, নাম ‘জিএম নজরুল ইসলাম’ এবং পদবি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ উল্লেখ রয়েছে। এ সময় ভিডিওতে উপস্থিত একজনকে বলতে শোনা যায়- ‘দেখেন, সাতক্ষীরা জামায়াতের লোক মেয়েসহ এখানে ধরা খাইছে। এই যে এই মুরুব্বি।’
তবে ভিডিওটি কবে, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে সোমবার রাতে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভাইরাল ভিডিওতে থাকা তরুণী গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এমপি আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে, তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে।
পরে গাজী নজরুল ইসলামও নিজের ফেসবুক পোস্টে একই দাবি করেন।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রাজধানীর মগবাজারে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার অফিসে তাকে জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে তাদের ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে দ্বিতীয়বারের মতো সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সাবেক আমির এবং বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।