আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ২৫ জুলাই ২০২৬, ০০:৩৭

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর শুক্রবার (২৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স, বিবিসি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, ব্লুমবার্গ, মানিকন্ট্রোল এবং ডব্লিউআইওএনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
প্রতিবেদনগুলোর মূল আলোচ্য বিষয় ছিল মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত, তার শারীরিক অসুস্থতা এবং ভারত থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা ঘিরে সৃষ্ট নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
রয়টার্স জানায়, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দায়িত্ব পালন করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করেন। সংস্থাটি উল্লেখ করে, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে প্রথমে অন্তর্বর্তী প্রশাসন এবং পরে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদ মূলত আনুষ্ঠানিক; কার্যনির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে আসার পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়তে থাকে। বিবিসি বাংলার তথ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে তাকে সরে দাঁড়ানোর জন্য জোরালো চাপ দেওয়া হয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে, তবে রাজনৈতিক বাস্তবতাকেই মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানান। এরপর রাষ্ট্রপতির অবস্থান আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলমের বরাত দিয়ে জানায়, স্বাস্থ্যগত জটিলতা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার কারণেই তিনি দায়িত্ব পালন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তবে গণমাধ্যমটি তিনটি গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার পর সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির ওপর পদত্যাগের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর ফলে শেখ হাসিনা তার উচ্চপর্যায়ের শেষ রাজনৈতিক মিত্রকেও হারালেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোল তাদের বিশ্লেষণে প্রশ্ন তোলে, শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি ফোনালাপই কি রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিয়েছে? প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ এবং সাম্প্রতিক ফোনালাপ পদত্যাগের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা দিতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ব্লুমবার্গ ও ডব্লিউআইওএন জানায়, ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও ৭৬ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতির আগাম বিদায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের পর পূর্ববর্তী সরকারের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার অন্যতম প্রতীক ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো আরও উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা কার্যকর হয়। থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দেশে ফেরার পর তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।