
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় তার লাশ খুঁজে পায় এলাকাবাসী।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তার পরিবার।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট, গায়ের রং শ্যামলা। নিখোঁজের সময় তার পরনে পাঞ্জাবি ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়। এরপর থেকে তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে বেলা ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে আমার আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল। এরপর আর ফিরে আসেনি।’
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে অপ্রতিম অটোরিকশায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আসে। সেখানে একটি ছেলের সঙ্গে হাত মেলায় এবং প্রায় এক ঘণ্টা তার সঙ্গে কথা বলে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ওই ছেলেকে দেখা গেলেও পরিবার বা স্থানীয়দের কাছ থেকে তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।’
এদিকে, শিশুটির মা নাহিদা বেগম তার ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘আমার ছেলেকে বিকাল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতিম। বয়স ১৩। ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় পরনের এই (ফেসবুকে দেওয়া ছবি) পাঞ্জাবিটা ছিল গায়ে। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাতজোড় করছি, আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি। ফোন নম্বর ট্র্যাক করে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত ফোন ওর সঙ্গে নেই। ফেসবুক আইডি যে ফোনে, সেটা বাসায় রেখে গেছে। আপডেট থাকলে জানাবো। আপনারা দয়া করে চেষ্টা করেন।’