
আগামী মাসেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে চালু হওয়ার কথা কক্সবাজার বিমানবন্দরের। উদ্বোধনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হলেও রানওয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। সমুদ্রের বুকে সম্প্রসারিত রানওয়েতে স্থাপিত কোটি টাকা মূল্যের ‘ক্যাটাগরি-২ প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইটিং সিস্টেমের’ বৈদ্যুতিক তার ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বারবার চুরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এমন ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও দেশের এভিয়েশন খাতের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আগামী ২৬ অক্টোবর আইকাওর অডিট হওয়ার কথা। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কক্সবাজারের কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতির মধ্যে এ অডিটকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত ৭ অক্টোবর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) ১৪তম সভায় লাইটিং সিস্টেমের তার ও যন্ত্রাংশ বারবার চুরির বিষয়টি আলোচনায় আসে। সভায় এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সভায় জানানো হয়, বিমানবন্দরের পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালকের কাছ থেকে প্রায়ই এ ধরনের চুরির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। রানওয়ের নিরাপত্তা ও উড়োজাহাজের নিরাপদ অবতরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যবস্থার সরঞ্জাম চুরি যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের নথিতেও বিষয়টি উঠে এসেছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘কেপিআই এলাকায় এ ধরনের যন্ত্রাংশ বা তার চুরির ঘটনা চরম নিরাপত্তাঘাটতির বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে আইকাওর অডিট যখন দোরগোড়ায়, তখন এ ঘটনা দেশের এভিয়েশন খাতের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলতে পারে। সমুদ্রবক্ষের এই স্পর্শকাতর নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই। দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নিলে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের বিমান নিরাপত্তার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং অডিটে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’
বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, ‘এনসিএএসসির সভায় এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরের সমুদ্রবক্ষে স্থাপিত লাইটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের স্পর্শকাতর স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।’
বেবিচকের সুপারিশের ভিত্তিতে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পর্যটন মন্ত্রণালয়। চিঠিতে নৌপুলিশের মাধ্যমে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রানওয়ে সমুদ্রের দিকে সম্প্রসারণের ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উড়োজাহাজ চলাচলের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থার গুরুত্বও বেড়েছে। বিশেষ করে কুয়াশা, কম দৃশ্যমানতা কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ায় উড়োজাহাজের নিরাপদ অবতরণে অ্যাপ্রোচ লাইটিং সিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ব্যবস্থার বৈদ্যুতিক সংযোগ বা সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম চুরি কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হলে উড়োজাহাজের অবতরণে পরিচালনাগত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বেবিচকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘সমুদ্রে বিস্তৃত এলাকায় স্থাপিত লাইটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্থলভাগের কোনো স্থাপনা পাহারা দেওয়ার কাজটি সহজ নয়। সেখানে সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা, নজরদারি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় টহল পরিচালনার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হয়। তবে এসব চ্যালেঞ্জ আগে থেকেই বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা।’
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কক্সবাজারের কার্যক্রম শুরুর আগে লাইটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুনরাবৃত্ত চুরি ঠেকানো এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।