
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং বিএনপি'র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ইতিপূর্বে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৮ মাস ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকার পতনের পর এক ক্রান্তিকালে, নাজুক অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অবস্থায় দেশের এবং অর্থনীতির হাল ধরেছিলেন সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার। সে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।
দায়িত্ব গ্রহণকালে তাদের সামনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু সামস্টিক অর্থনীতির বিচারে শুধুমাত্র দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রিজার্ভ বৃদ্ধি, ডলার সংকট নিরসন এবং প্রাথমিক অবস্থায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি তারা দেখাতে পারেনি।
আমার মতে উপদেষ্টাদের রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতার কারণে বিগত দেড় বছরে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং আমদানি-রপ্তানি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময়কালে একেবারে ভেঙে না পড়লেও অর্থনীতিতে খুব একটা গতি সঞ্চার হয়নি এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি ছিল যা ৮.৯ শতাংশ।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যথেষ্ট কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া, চাকরি হারানো এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৭.৯৩ শতাংশ, যা ২০২২ সালে ছিল ১৮.৭ শতাংশ।
দেড় বছরে সংকোচনশীল মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন, মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কমে যাওয়া এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। যার ফলশ্রুতিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারও দ্রুতগতিতে কমেছে।
প্রত্যেক নতুন সরকারের সামনে কিছু না কিছু অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকে। এ সরকারের সামনেও উপরোক্ত অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। যার মধ্যে অন্যতম হলো কর্মস্থান বাড়ানো, গ্রামাঞ্চলে দারিদ্রতা কমানো, আর্থিকখাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। পাশাপাশি আর্থিক খাতে চলমান সংস্কার অব্যাহত রাখা এবং খেলাপি ঋণ কমানোর চ্যালেঞ্জও সরকারকে মোকাবিলা করতে হবে।
নতুন সরকারকে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে। দেড় বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া গার্মেন্টসসহ শিল্প কারখানা চালুর ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিজিএমইএ দাবি করে তার আগে ১৪ মাসে দেশে মোট ৩৫৩টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছে।
দেশের সর্ববৃহৎ টায়ার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গাজী টায়ার আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৫০০ শ্রমিক বেকার হয়েছে। বেক্সিমকো গ্রুপের ১৬টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে এবং কাজ হারিয়েছে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা, প্রয়োজনে প্রণোদনা দিয়ে এবং বিকল্প উপায়ে উক্ত শিল্প কারখানাগুলো চালু করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রত্যেক নতুন সরকারের সামনে কিছু না কিছু অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকে। এ সরকারের সামনেও উপরোক্ত অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। যার মধ্যে অন্যতম হলো কর্মস্থান বাড়ানো, গ্রামাঞ্চলে দারিদ্রতা কমানো, আর্থিকখাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা।
আশা করি আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকবে এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ রাখবে। বেকার যুবসমাজকে শ্রমবাজারের মাধ্যমে কাজে ফেরাতে পারলে অনেকগুলো সামাজিক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং অস্থিরতা কমবে।
নতুন সরকারের সামনে অন্যতম আরেকটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চ খাদ্যমূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম দিকে বাজার মনিটরিংয়ের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। সর্বশেষ, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১০.৮৯ শতাংশ।
বিবিএসের তথ্যমতে ডিসেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১২.৯২ শতাংশ। নতুন সরকার যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে পারে তবে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আশাকরি নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। এক্ষেত্রে বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রণালয়কে সবসময় সমন্বয় করতে হবে।
দেড় বছরে উচ্চ সুদহার এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ নেওয়ার গতি ছিল খুব মন্তর। যেহেতু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, আশা করি বেসরকারি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে।
এক্ষেত্রে সরকার সুদের হার কমিয়ে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম বছরে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বেশ খরা চলছিল।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই এ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করেছে এবং আমদানিতে কিছুটা গতি এসেছে। আশা করি নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে ব্যবসায়ীরা আমদানিতে আরও আগ্রহী হবে এবং সরকার এব্যাপারে নীতি-সহায়তা দিয়ে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানিতে সহযোগিতা করবে।
রেমিট্যান্সের নিম্নমুখী প্রবাহ টেনে তোলার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার সফল ছিলেন। দেশে এখন রিজার্ভের পরিমাণ ৩৪.৫৩ বিলিয়ন ডলার যা ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে ছিল ১৬ বিলিয়ন ডলার। অবশ্য রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেই বলা যাবে না অর্থনীতি ভালো অবস্থায় আছে।
রিজার্ভ বৃদ্ধি আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির এধারা অব্যাহত রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সরকারি ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান এবং নানা প্রচারণা চালাতে হবে, পাশাপাশি প্রেরিত রেমিট্যান্সের ওপর বিদ্যমান ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা সুবিধা অব্যাহত রাখতে হবে।
নতুন সরকারের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো। বিগত রাজনৈতিক সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেকগুলো চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই ব্যাংকগুলোর বেশকিছু তারল্য সংকটে দেউলিয়া হওয়ার মতো উপক্রম হয়েছিল।
সেসময় সরকার পুঁজি সরবরাহ করে সেগুলো বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল। এসব ব্যাংকগুলোর মালিকপক্ষ এবং পরিচালকদের অনেকের বিরুদ্ধে নামে বা বেনামে ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে আত্মসাৎ এবং পাচারের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ব্যাংকিং খাতে কৌশলী ভূমিকা না নিয়ে আকস্মিকভাবে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় এখাতে লেজে-গোবরে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন সরকারের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো। বিগত রাজনৈতিক সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেকগুলো চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই ব্যাংকগুলোর বেশকিছু তারল্য সংকটে দেউলিয়া হওয়ার মতো উপক্রম হয়েছিল।
আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে ড. আহসান এইচ মনসুরকে নিয়োগ দেওয়ায় বেশ আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু উনিও তেমন কোনো ক্যারিশমা দেখাতে পারেননি। উল্টো পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে সংকট আরও ঘণীভূত করেছেন। ব্যাংক পাঁচটির মোট হিসাবধারী ৭৫ লাখ এবং আমানতের পরিমাণ ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
উল্লেখ্য এ পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার বিষয়ে গভর্নর এবং অর্থ উপদেষ্টার পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন এবং সমন্বয়হীনতার লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়াও ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন সরকারের নিকট এই দুই বড় উদ্যোগ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাটাও বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। একইসাথে আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো ক্ষেত্রেও সরকারকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা পরিহার করে নতুনভাবে সৎ ও দক্ষ পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। ব্যাংকগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। তবে যেকোনো পরিস্থিতিতে উক্ত ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তদারকি করতে হবে।
বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায়ে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। স্বল্পমেয়াদে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি এ খাতের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন করতে হবে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এ বিপুল অংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারকে জোর তৎপরতা চালাতে হবে। সরকারি দলে যারা ঋণ খেলাপি আছে তাদেরও ছাড় দেওয়া যাবে না।
সরকারের সাংসদদের জন্য করমুক্ত গাড়ি সুবিধা এবং সরকারি প্লট না নেওয়ার দলীয় সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। একইসাথে বিগত আমলের চলমান গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোয় অর্থ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বরাদ্দ বাদ দিয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে সবধরনের চেষ্টা চালাতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় ব্যয় সংকোচনের নীতি অব্যাহত রাখতে হবে।
বিভিন্ন সময়ে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ কীভাবে ফেরত আনা যায় সে বিষয়ে নজর দিতে হবে। সর্বোপরি স্বাধীন ব্যাংক কমিশন গঠন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়ে আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে।
ঝুলন ধর : সহযোগী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্র: ঢাকা পোস্ট