যে দেশে কুকুরের জন্য বিশেষ স্কুল

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৫১

কানাডায় মানুষের মতো কুকুরদের জন্যও রয়েছে আলাদা স্কুল। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছ। সেখানকার অনেক ভাগ্যবান কুকুর প্রতিদিন রীতিমতো স্কুলে যায়। এসব স্কুলে কুকুরদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও নিবিড় যত্নের ব্যবস্থা থাকে। এটা এদের নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে। কুকুরদের সারা দিন হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত রাখতেও বড় ভূমিকা রাখে স্কুলগুলো।
এ ধরনের স্কুলে সবচেয়ে মজার দিক হলো এদের যাতায়াতব্যবস্থা। নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলের বাস এসে কুকুরদের স্কুল নিয়ে যায় এবং দিন শেষে আবার যার যার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যায়। বাসে প্রতিটি কুকুরের জন্য থাকে আলাদা আলাদা বসার স্থান।
কুকুরের স্কুল মোটেও সাধারণ কোনো কুকুর প্রশিক্ষণকেন্দ্র নয়। এটি মূলত কুকুরদের জন্য তৈরি একটি সাজানো–গোছানো প্রতিষ্ঠান, যেখানে এদের বিভিন্ন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া হয়। এখানে কুকুরছানারা বিভিন্ন কুকুরের সঙ্গে মেলামেশা করতে পারে, যা এদের মানসিকভাবে চনমনে রাখতে সাহায্য করে।
স্কুলগুলো একেক কুকুরের জন্য একেক রকম সেবা দিয়ে থাকে। ছোট কুকুরছানাদের শেখানো হয়, কীভাবে সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে হয়। আবার বয়স্ক কুকুরদের আচরণগত কোনো সমস্যা থাকলে তা দূর করতেও এসব স্কুল সাহায্য করে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ প্রয়োজনে সাহায্যকারী বা সার্ভিস ডগ হিসেবেও এখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সহজ কথায়, কুকুরের শারীরিক ও মানসিক উন্নতির জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা কানাডায়।
কানাডায় কুকুরের প্রয়োজন ও বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের স্কুল রয়েছে। পাপি স্কুল ছোট কুকুরছানাদের জন্য। এখানে এদের সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকা ও মানুষের কথা মেনে চলার মতো প্রাথমিক অভ্যাসগুলো আনন্দের সঙ্গে শেখানো হয়। অন্যদিকে, যেসব কুকুর অতিরিক্ত রাগ, ভয় বা অকারণ ঘেউ ঘেউ করার মতো সমস্যায় ভোগে, তাদের জন্য রয়েছে আচরণ সংশোধন স্কুল। বিশেষ প্রোগ্রামের মাধ্যমে এখানে এদের শান্ত ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে তোলা হয়।
আবার বিশেষ কাজের জন্য তৈরি করা হয় সার্ভিস ডগ স্কুল। যেখানে কুকুরদের অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় যাতে এরা শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করতে পারে। এ ছাড়া শৌখিন মালিকদের জন্য রয়েছে বিলাসবহুল ডগ স্কুল, যেখানে কুকুরের রাজকীয় যত্ন নেওয়া হয়। এখানে শরীর ও মন সতেজ রাখতে কুকুরের সাজগোজ ও স্পা করার পাশাপাশি দোগা (Doga) অর্থাৎ কুকুর যোগব্যায়ামের সব সুবিধাও থাকে।
কানাডায় কুকুরের স্কুলের জনপ্রিয়তার মূল কারণ সেখানকার মানুষের গভীর পশুপ্রেম ও তীব্র জলবায়। অনেক সময় প্রচণ্ড তুষারপাত বা হাড়কাঁপানো শীতের কারণে কুকুরদের বাইরে নিয়ে গিয়ে দৌড়ঝাঁপ করানো সম্ভব হয় না। ডগ স্কুলগুলো এ সমস্যার সমাধান দেয়। তারা সারা বছর এমন সব ইনডোর প্রোগ্রামের ব্যবস্থা রাখে যাতে বিরূপ আবহাওয়াতেও কুকুরগুলো খেলাধুলা ও সবার সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ পায়। এ ছাড়া ছোট কুকুরছানাকে সুসভ্য করা থেকে শুরু করে বিশেষ থেরাপি ডগ হিসেবে গড়ে তুলতে এসব স্কুল অপরিহার্য হয়ে উঠেছে সেখানে।
মানুষের যেমন বন্ধু প্রয়োজন, কুকুরদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। এসব স্কুলে একটি কুকুর অন্য অনেক কুকুরের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পায়, যা এদের একাকিত্ব ও ভয় দূর করে মেজাজ চনমনে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি কুকুরেরা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলতে পছন্দ করে। স্কুলে পরিকল্পিত ও নিয়মতান্ত্রিক শিক্ষার মাধ্যমে এদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো হয়। এটা এদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
স্কুলগুলোয় থাকেন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক। কুকুরের জেদ কমানো বা মানুষের কথা মানতে অভ্যস্ত করার মতো জটিল কাজগুলো তাঁরা খুব সুনিপুণভাবে করতে পারেন, যা কোনো সাধারণ মালিকের পক্ষে বাড়িতে করা বেশ কঠিন। প্রতিটি কুকুরের স্বভাব আলাদা। কোনোটি শান্ত আবার কোনোটি খুব চঞ্চল। এই ব্যক্তিগত ভিন্নতা মাথায় রেখে স্কুলগুলো প্রতিটি কুকুরের জন্য আলাদা ও বিশেষায়িত প্রোগ্রাম অফার করে যা পোষা প্রাণীর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এসব কারণে কানাডায় কুকুরও স্কুলে যায়।
সূত্র: মাইওয়াগল, গোল কাস্ট
* প্রথম আলো থেকে নেওয়া