
অ্যাপল তার দীর্ঘদিনের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের নীতি থেকে সরে এসে গুগলের সঙ্গে একটি বড় ধরনের অংশীদারিত্বে প্রবেশ করেছে। আগামী প্রজন্মের এআই ফিচার, বিশেষ করে সিরি ডিজিটাল সহকারী পরিচালনা করতে গুগলের জেমিনি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে অ্যাপল।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে দুই প্রতিষ্ঠান। এই বহুবছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় অ্যাপল তার নতুন এআই উদ্যোগে গুগলের জেমিনি প্রযুক্তি ব্যবহার করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের মূল্যায়ন শেষে অ্যাপল মনে করেছে, গুগলের প্রযুক্তিই তাদের এআই লক্ষ্য পূরণে সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি অ্যাপলের জন্য একটি বড় পরিবর্তন, কারণ প্রতিষ্ঠানটি এত দিন তার নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবস্থার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোন বাজারে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ও গুগলের মধ্যে এটি একটি বিরল সহযোগিতা। বর্তমানে অ্যাপলের আইওএস এবং গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমেরই বাজারে আধিপত্য রয়েছে। যদিও এর আগেও দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল—গুগল প্রতিবছর অ্যাপলকে বিপুল অর্থ প্রদান করে যাতে অ্যাপলের ডিভাইসে গুগল ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে থাকে।
তবে এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরেও রয়েছে, যারা মনে করেন, এই ধরনের চুক্তি গুগলের সার্চ বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে। যদিও আপাতত আদালত এই চুক্তি বহাল রাখার অনুমতি দিয়েছে।
নতুন এআই চুক্তি নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। টেসলা ও এক্সের মালিক ইলন মাস্ক এই চুক্তিকে প্রতিযোগিতাবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, গুগলের ক্ষমতা ক্রমেই আরও কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড, ক্রোম ও এখন এআই ক্ষেত্রেও।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল গুগলের পাশাপাশি ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক এবং পারপ্লেক্সিটির সঙ্গে অংশীদারিত্বের বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত গুগলের জেমিনিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।
চুক্তির আর্থিক শর্ত জানানো হয়নি, তবে ঘোষণার পর গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের শেয়ারমূল্য প্রথমবারের মতো ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে।
বিশ্লেষক ড্যান আইভস বলেন, এটি গুগলের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি, এবং অ্যাপলের জন্য এটি ২০২৬ ও তার পরবর্তী সময়ে এআই কৌশল সঠিক পথে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এআই খাতে অ্যাপলের গতি নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠলেও, প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা আইফোন ও আইপ্যাডে নিজেদের ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবস্থাই ব্যবহার করবে। এর ফলে ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষায় ‘শিল্পখাতের শীর্ষ মানের গোপনীয়তা’ বজায় থাকবে।