হরমুজে জাহাজের নিরাপত্তায় যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-জার্মানি-ইতালি-নেদারল্যান্ডস ও জাপানের প্রস্তুতি

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৯ মার্চ ২০২৬, ২৩:২৮

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা ‘যথাযথ প্রচেষ্টায়’ অংশ নিতে প্রস্তুত। খবর আলজাজিরার
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমাতে উৎপাদন বাড়ানোসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বানও জানানো হয় বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে যেসব দেশ প্রাথমিকভাবে উদ্যোগ নিয়েছে, তাদের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। তবে সরাসরি সামরিক উপস্থিতি বা নৌবহর পাঠানোর বিষয়ে স্পষ্ট কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। বিশ্ব জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর প্রভাব দ্রুত বৈশ্বিক বাজারে পড়ে। ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
ইরান দাবি করছে, প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ নয়। তবে হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। এ পর্যন্ত অন্তত ১৬টি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। যদিও ভারত, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কিছু ট্যাংকার ইরানের অনুমতি নিয়ে চলাচল করেছে বলে জানা গেছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোকে হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানালেও ইউরোপ ও এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ তাতে সাড়া দেয়নি। এতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
সংকট সামাল দিতে প্যারিসভিত্তিক ইন্টারনেশনাল এনার্জি এজেন্সি কৌশলগত মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও নিজস্ব মজুত ব্যবহারের পাশাপাশি ইরানি ও রুশ তেলের ওপর কিছু বিধিনিষেধ শিথিলের চিন্তা করছে।
ছয় দেশের বিবৃতিতে এসব পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উৎপাদন বাড়াতে তারা উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেবে।