
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় গত কয়েক দিনে অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। তবে সম্ভাব্য চুক্তিতে ঠিক কী থাকতে পারে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা এবং কূটনৈতিক তৎপরতার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তি অনেকটাই এগিয়েছে। তবে পরে তিনি আলোচকদের তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দেন। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি যুদ্ধ শেষের সমঝোতা নয়; বরং ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য সময় কিনে নেওয়ার একটি কাঠামো হতে পারে।
সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির মূল বিষয়
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, প্রাথমিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে অন্তত ৬০ দিনের জন্য বর্তমান যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েকটি মৌলিক নীতিতে দুই পক্ষ একমত হওয়ার চেষ্টা করছে।
এসবের মধ্যে রয়েছে—হরমুজ প্রণালি ফের খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা এবং ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়া।
এরপর গ্রীষ্মজুড়ে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
পারমাণবিক ইস্যুতে বড় জট
সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সবচেয়ে জটিল অংশগুলোর একটি ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত। বর্তমানে ইরানের কাছে অস্ত্র-মানের কাছাকাছি সমৃদ্ধ চার শতাধিক কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে জানা যায়।
মার্কিন পক্ষ দাবি করছে, ইরান এসব উপকরণ দেশের বাইরে পাঠাতে রাজি হয়েছে। তবে ইরান তা অস্বীকার করেছে। পরিবর্তে তারা ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মাত্রা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
এখন আলোচনা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা এই প্রক্রিয়া তদারকি করতে পারে কি না।
নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সুবিধা
ইরানের আরেকটি বড় দাবি হলো, চুক্তি সইয়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করা। তারা দ্রুত নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং বিদেশে জব্দ হওয়া অর্থ ছাড়ের বিষয়টি চায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। তারা বলছে, পারমাণবিক আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত বড় ধরনের অর্থনৈতিক ছাড় দেওয়া হবে না।
রাজনৈতিক চাপে ট্রাম্প
সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও চাপ বাড়ছে। রিপাবলিকান পার্টির অনেক নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
কারণ, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সময়ে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে রাজনৈতিক চাপও বাড়তে পারে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর হরমুজ প্রণালিতে সংকট তৈরি হয়, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহে প্রভাব ফেলে।
সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খবরে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। তবে কূটনীতিকরা মনে করছেন, প্রাথমিক সমঝোতা হলেও অনিশ্চয়তা দ্রুত কাটবে না। চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।