
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির মুখ ও হাতে কালো কাপড় বেঁধে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্যটির পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কও। ঘটনাটিকে ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছে দলটি।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১ জুলাই) সকালে স্টেশন বাজার এলাকায় স্থানীয়রা মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিটি কালো কাপড় বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন কংগ্রেস পরিচালিত কাটোয়া পৌরসভা মূর্তিটি স্থাপন করেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কালো কাপড় সরিয়ে ফেলে। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এর নিন্দা জানিয়েছেন।
কাটোয়ার মহকুমা শাসক রীনা ঘোষ জানান, মূর্তির ওপরে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে এক গৃহহীন ব্যক্তি মূর্তিটির মুখ ও হাতে কালো কাপড় বেঁধে দেন।
কাটোয়ার সাবেক বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘যারা এ কাজ করেছেন তারা দেশবিরোধী। তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে’। পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপির সহসভাপতি অনিল দত্তও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এটিকে ‘জঘন্য ঘটনা’ উল্লেখ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এই ঘটনার পর কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘এ কাজ কে করতে পারে? নিশ্চয়ই কিছু দুষ্কৃতকারী করেছে। কিন্তু হঠাৎ তারা গান্ধীজিকে কেন বেছে নিল? পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, এর পেছনে বড় একটি ষড়যন্ত্র রয়েছে।’
তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির মুখে কালো কাপড় বেঁধে তার আদর্শ, নীতি বা তিনি যে পথ দেখিয়েছেন, তা কখনোই মুছে ফেলা যাবে না। তার ভাষায়, ‘জাতির জনক শুধু ভারতের নয়, সারা বিশ্বের পথপ্রদর্শক।’
পশ্চিমবঙ্গের সব মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করল শুভেন্দু সরকার
তিনি আরও দাবি করেন, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তারা ‘গান্ধীজিকে ভয় পায়’। তার ভাষায়, ‘তারা হয়তো গান্ধীজির মূর্তির মুখ ঢেকেছে, কিন্তু আসলে নিজেদের মুখই ঢেকেছে।’
একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।