হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ‘পারমাণবিক অস্ত্রের’ মতো শক্তিশালী

মেদভেদেভ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ০৫ জুলাই ২০২৬, ০০:১০

হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের যে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব রয়েছে, তা একটি পারমাণবিক অস্ত্রের সমতুল্য কৌশলগত সুবিধা দেয় বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ।
তিনি যুক্তি দেন, এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করার ক্ষমতা তেহরানের ভূ-রাজনৈতিক শক্তিকেই প্রমাণ করে। ইরান সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুশ এই শীর্ষ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যদি ব্যাপক আকারে কোনো আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, তবে তেহরান বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়েও জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে পারে। 
এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বিষয়টি যেন সে পর্যন্ত না গড়ায়, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করে মেদভেদেভ বলেন, যারা এই অঞ্চলে সংঘাত উসকে দিচ্ছে, তাদের ইরানের এই সক্ষমতার কথা মাথায় রাখা উচিত।
সম্প্রতি ইরানের ওপর চালানো মার্কিন হামলার তীব্র সমালোচনা করে মেদভেদেভ একে ‘সম্পূর্ণ উসকানিহীন’ বলে আখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, যখন দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা আলোচনা চলছিল, তখন ইরান আমেরিকার জন্য কোনো হুমকি ছিল না। এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনকে মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগ নিরসনে রাশিয়া আগেই একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছিল। 
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান সমঝোতা স্মারক নিয়ে মেদভেদেভ বলেন, সংঘাতের চেয়ে যেকোনো আলোচনা বা চুক্তি উত্তম। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের পুনর্গঠনে অর্থায়নের মতো জটিল বিষয়গুলোর কারণে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সফরকালে মেদভেদেভ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে একটি বিশেষ বিষয়ে আলোচনা করেন। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবং অবৈধ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে নিষেধাজ্ঞা কবলিত দেশগুলোকে নিয়ে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম বা সংস্থা গঠনের বিষয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়। মেদভেদেভ জানান, তেহরান কয়েক বছর আগেই এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল, যা এখন একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সংস্থায় রূপ নিতে পারে।
শুক্রবার (৩ জুন) ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এই বৈঠক করেন মেদভেদেভ। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত হিসেবে মস্কোর পক্ষ থেকে শোক জানাতে তিনি তেহরান সফরে যান। 
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় তিন সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধ চলে। পরবর্তীতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকের অধীনে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।