
কথিত এক সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক মার্কিন নাগরিক ভারতের দিল্লির একটি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তিহার জেলের ভেতরে নিজের খাবার নিজে রান্না করার অনুমতি চেয়েছেন। তার দাবি, কারাগারের অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবার তিনি সহ্য করতে পারছেন না।
ম্যাথিউ ভ্যানডাইক নামের ওই মার্কিন নাগরিক গত এপ্রিল মাস থেকে বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন। বিশেষ এনআইএ (জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা) আদালতকে তিনি জানান, জেলের খাবারের সাথে মানিয়ে নিতে না পেরে দীর্ঘ সময় ধরে না খেয়ে থাকার কারণে গত তিন মাসে তার ওজন প্রায় ১৪ কেজি কমে গেছে।
পাতিয়ালা হাউস কোর্টে দায়ের করা আবেদনে ভ্যানডাইক তার পরিবারের মাধ্যমে জেলের ভেতরে ইন্ডাকশন কুকার ও পোর্টেবল স্টোভসহ রান্নার সরঞ্জাম এবং অলিভ অয়েল ও পাস্তার মতো খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের অনুমতি চেয়েছেন, যাতে তিনি নিজেই নিজের খাবার তৈরি করে নিতে পারেন।
ভ্যানডাইক গত ৬ মে থেকে অনশন ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, কারাগারের নিয়মিত খাদ্যতালিকা তার শরীরে প্রচণ্ড অস্বস্তি তৈরি করছে এবং স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে ভারতীয় কারাগারের এই ধরনের খাবার নিয়মিত খাওয়া তার পক্ষে যেমন অভ্যস্ততা বহির্ভূত, তেমনি শারীরিকভাবেও অসম্ভব।
নিজের শারীরিক দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে ভ্যানডাইক আরও জানিয়েছেন, জেলের মশার কামড়ে তার ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সুরক্ষার জন্য মশা তাড়ানোর ওষুধ ও মশারি সরবরাহের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
চলতি বছরের মার্চ মাসে ছয়জন ইউক্রেনীয় নাগরিকের সাথে এই মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করে এনআইএ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই দলটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামে অবৈধভাবে প্রবেশ করে মিয়ানমার সীমান্তে চলে যায়। সেখানে তারা মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত এবং ভারতে সক্রিয় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে সহায়তাকারী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ভ্যানডাইককে প্রথমে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে গত ৬ এপ্রিল তিহার জেলে স্থানান্তর করা হয়।
আদালত এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিহার জেল কর্তৃপক্ষকে তাদের বক্তব্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে, আগামী ২১ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।
সূত্র: সামা টিভি।