বিশ্বজুড়ে ইরানি এয়ারলাইনের কার্যক্রম কীভাবে বন্ধ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৩৪

ইরানি এয়ারলাইনগুলোকে সহায়তা করে যাওয়া বিদেশি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ইরানি এয়ারলাইনগুলো আগামীকাল বুধবার থেকে আন্তর্জাতিক রুটে নিজেদের ফ্লাইট পরিচালনা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
বেসেন্ট গতকাল সোমবার সিএনবিসিকে বলেন, ‘২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সারা বিশ্বে সব ইরানি এয়ারলাইনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।’
এ সতর্কবার্তা শুধু এয়ারলাইনগুলোর জন্য নয়; বিদেশে কার্যক্রম চালাতে এসব এয়ারলাইন যেসব বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে, তাদের লক্ষ্য করেও দেওয়া হয়েছে।
এ সতর্কবার্তা শুধু এয়ারলাইনগুলোর জন্য নয়; বিদেশে কার্যক্রম চালাতে এসব এয়ারলাইন যেসব বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, টিকিট বিক্রি প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে, তাদের লক্ষ্য করেও দেওয়া হয়েছে।
ইরানি এয়ারলাইনের কার্যক্রম কিভাবে বন্ধ হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘তারা যদি অবতরণ করে, তাহলে তাদের জ্বালানি দেওয়া যাবে না, উড়োজাহাজ অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া যাবে না, তাদের টিকিট বিক্রি করা যাবে না। এগুলো করলে আপনাকেই ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়া হবে।’
এ হুমকি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের সর্বশেষ উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে নানাভাবে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
তারা যদি অবতরণ করে, তাহলে তাদের জ্বালানি দেওয়া যাবে না, উড়োজাহাজ অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া যাবে না, তাদের টিকিট বিক্রি করা যাবে না। এগুলো করলে আপনাকেই ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
স্কট বেসেন্ট, মার্কিন অর্থমন্ত্রী
চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের যেসব এয়ারলাইনের বিরুদ্ধে আগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি, সেগুলোসহ কিছু বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যেগুলো বিরুদ্ধে দেশটির বিমান চলাচল খাতকে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে।
বছরের পর বছর চলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিমান চলাচল খাত এমনিতেই নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির এয়ারলাইনগুলোর জন্য নতুন উড়োজাহাজ কেনা এবং খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
নতুন পদক্ষেপ ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে নেওয়া আরও বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার আওতায় জ্বালানি, নৌপরিবহন, প্রযুক্তি, সোনা ও ডিজিটাল সম্পদসহ বিভিন্ন খাতে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি কোম্পানিগুলো শাস্তির মুখে পড়তে পারে।
ইরানবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীন ‘সক্রিয়ভাবে কাজ করছে’
আগামী বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন বেসেন্ট। পরে বেসেন্ট ইরানের এয়ারলাইনগুলোর কার্যক্রম আটকে দেওয়া নিয়ে এসব মন্তব্য করেন।
ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার ও কূটনৈতিক সমর্থক চীন। ফলে তেহরানকে আর্থিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ওয়াশিংটনের চেষ্টায় বেইজিংয়ের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বেসেন্ট দাবি করেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগের এ চেষ্টায় চীনা কর্মকর্তারা ‘খুব সক্রিয়ভাবে যুক্ত’ ছিলেন। ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার বিষয়ে চীনের আর্থিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ওয়াশিংটন ইতিবাচক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।