ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাবে কী রয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৯ মে ২০২৬, ২০:০৭

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এর আগে তাদের দেওয়ার প্রস্তাবকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করলেও এই প্রস্তাবে নতুন কোনো চমক নেই।
মূলত তেহরানের সেই দাবিগুলোই আবার নতুন করে উত্থাপন করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের এই নতুন প্রস্তাবে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিরতি এবং বৈরিতা অবসানের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের কাছাকাছি এলাকাগুলো থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি তহবিল অবমুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। 
সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ বলছে, এর বাইরে সংঘাতের সময় ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনী যে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছিল, তার অবসান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নজরদারিতে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তাও চেয়েছে তেহরান।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই শর্তগুলোর কথা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে স্থানীয় সময় গত সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তেহরানের কাছ থেকে একটি নতুন প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি ইরানে পূর্বপরিকল্পিত বিমান হামলা আপাতত স্থগিত রেখেছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দুই পক্ষ হয়তো শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে এবং কোনো রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাত ছাড়াই বিষয়টির সমাধান হলে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন। 
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ওমান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য নেতাদের তীব্র চাপ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণেই ট্রাম্পকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং সৌদি আরবের নেতারা ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন যেন তিনি এখনই বড় কোনো হামলায় না যান, কারণ আলোচনার মাধ্যমে এখনো সংকট সমাধানের পথ খোলা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মাসে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মধ্যস্থতা করেছিল পাকিস্তান। দেশটির একটি কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, চলমান এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তারা ইরানের এই নতুন প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
তবে ওই সূত্রটি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, উভয় পক্ষই বারবার তাদের অবস্থান ও দাবি পরিবর্তন করছে এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য তাদের হাতে আসলে খুব বেশি সময় নেই। 
ইরানের একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন হয়তো তাদের কট্টর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসছে এবং ইরানের কিছু হিমায়িত অর্থ ছেড়ে দেওয়া ও সীমিত পরিসরে বেসামরিক পারমাণবিক কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে নমনীয়তা দেখাচ্ছে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, আলোচনার খাতিরে ইরানের ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।