
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্পেন। লিওনেল মেসিদের কাঁদিয়ে শেষমেশ ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হলো ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা।
পুরো ম্যাচেই স্পেন খেলেছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো করেই। ওদিকে আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই ছিল দ্বিতীয় শ্রেয়তর দল হয়ে। ফাইনালের পঞ্চম মিনিটেই গোলের কাছে চলে গিয়েছিল স্পেন। বক্সের ভেতর ডান পাশে বল পেয়ে যান লামিন ইয়ামাল। তাঁর শটটা দারুণভাবে ঠেকান গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
এর কিছুক্ষণ পর ডান পাশ থেকে আক্রমণে উঠে ইয়ামাল একটা নিচু ক্রস করেন বক্সে। তবে এই ক্রস সামনে এসে ধরে নেন মার্তিনেজ।
খেলার শুরুর দিকে স্পেনই বেশি আক্রমণ করেছে। বলের দখল ছিল তাদের ৬৫ শতাংশ সময়, শটও তাদের বেশি। আর্জেন্টিনাকে এদিন তাদেরই কৌশলে আটকে রেখেছিল স্পেন। মাঝমাঠে পারেদেসের অনুপস্থিতি ভালোভাবেই টের পাচ্ছিল আর্জেন্টিনা।
৩৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ একটা শট নেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। তবে সহজেই সেটা ঠেকান মার্তিনেজ।
ম্যাচের ৪০ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ডের দেখা মেলে। স্পেনের একটা প্রতি আক্রমণ ফাউল করে ঠেকান লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। বড় সুযোগ নষ্ট করার জন্য রেফারি তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান।
এরপর বক্সের বাইরে থেকে আর্জেন্টিনা রক্ষণকে চমকে দেন মার্ক কুকুরেয়া। তাঁর বাম পায়ের শটটা অবশ্য দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
৪৪ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে। কিছুক্ষণ আগেই হলুদ কার্ড দেখেছিলেন তিনি। তাঁর বদলে মাঠে নামেন নিকলাস ওতামেন্দি।
প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ০-০ স্কোরলাইন নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০ মিনিট খেলা লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে শুরুর একাদশে রাখেননি কোচ স্কালোনি। তবে বিরতির ঠিক পরই নিকো গঞ্জালেসের বদলে তাঁকে মাঠে আনতে বাধ্য হন কোচ।
মাঠে নামার ছয় মিনিটের মাথায় ওইয়ারসাবালকে ফাউল করে বসেন পারেদেস। মাঝমাঠের কাছে অফ দ্য বলে ফাউল করার পর আরও এক ধাক্কা দেন তিনি। ফলে রেফারি তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান।
এরপর মাঝমাঠ থেকে আসা বল নিয়ে দারুণভাবে আক্রমণে ঢুকে যান দানি অলমো। সেখান থেকে কাটব্যাক করেন কুকুরেয়ার জন্য। তবে তার আগেই দারুণভাবে বলটা ক্লিয়ার করেন গনজালো মন্তিয়েল। বিপদ থেকে রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর বাইশ মিনিটেও শ্রেয়তর দল ছিল স্পেন। কোনোরকমে তাদের ঠেকিয়ে রাখছিল আর্জেন্টিনা। এই সময়ে হাইড্রেশন ব্রেকের ডাক আসে, তার আগে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
৭৫ মিনিটে মিকেল মেরিনোকে মাঠে নামান স্পেন কোচ। এর আগের দুটো নকআউট ম্যাচেই বদলি হিসেবে নেমে গোল করে দলকে জিতিয়েছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে মাঠে আসেন নিকো উইলিয়ামসও। তাঁদের বদলে ওঠেন দানি অলমো আর অ্যালেক্স বায়েনা।
এরপর প্রতি আক্রমণে উঠছিল আর্জেন্টিনা। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার বলটা সামনে বাড়াচ্ছিলেন। অফ দ্য বলে রান নিচ্ছিলেন এনজো ফের্নান্দেস। রদ্রির সঙ্গে তাঁর সংঘর্ষ বাঁধে। মাটিতে পড়ে যান এনজো, তবে রেফারি অভিনয়ের অভিযোগে তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান।
মাঝমাঠের ওপরে একটা বল ক্লিয়ার করতে উঠে এসেছিলেন পাউ কুবারসি। বলের দখল নিয়ে লড়াইয়ে হারের পর তাঁর পায়ে লেগে যায় এনজো ফের্নান্দেসের পা। আগে থেকেই একটা হলুদ কার্ডে ছিলেন এনজো। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। দশ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি কিক পায় স্পেন। সেখান থেকে দারুণ একটা কিক নেন লামিন ইয়ামাল। তবে মার্তিনেজের দারুণ সেভ ম্যাচে টিকিয়ে রাখে আর্জেন্টিনাকে।
নির্ধারিত সময়েও গোলের দেখা মেলেনি। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, অন্তত ত্রিশ মিনিট খেলা চলার কথা ছিল তখন।
মিকেল মেরিনোর শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ। ফিরতি শটে নিকো উইলিয়ামস বলটা জালে জড়ান। তবে উদযাপনের আগেই গোলটা বাতিল করে দেন রেফারি। কারণ প্রথম শটের আগে মেরিনো ফাউল করেছিলেন নিকলাস ওতামেন্দিকে।
এরপর বড় একটা সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন মেরিনো। বাম পাশ থেকে আসা একটা ক্রসে ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন তিনি। হেডটা লক্ষ্যে থাকলেই গোল হতে পারত। কিন্তু তাঁর ফ্রি হেডার লক্ষ্যের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়।
১০৫ মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় স্পেন। বক্সের বাইরে থেকে ভেসে আসা বল মাঠের ভেতরে রাখেন নিকো উইলিয়ামস। ফাঁকায় সেটা পেয়ে যান ফেররান তরেস। এরপর জোরালো এক শটে জালে জড়ান তিনি। শিরোপা থেকে তখন চৌদ্দ মিনিট দূরে ছিল স্পেন।
দাঁতে দাঁত চেপে বাকি সময়টা রক্ষণকাজ সারে স্পেন। শেষ বাঁশি বাজতেই স্প্যানিয়ার্ডরা ফেটে পড়েন উচ্ছ্বাসে। আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।