
ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এর সাম্প্রতিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুতর অপরাধে জড়িত একাধিক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, মাদক পাচার, প্রতারণা এবং হামলার মতো নানা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের এই অভিযানে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিট (ডিএইচএস)। গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত এসব অবৈধ অভিবাসীর তালিকায় কয়েকজন বাংলাদেশিও রয়েছেন বলে জানায় ডিএইচএস । হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’র ডেপুটি সহকারী সচিব লরেন বিস এক বিবৃতিতে বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সাম্প্রতিক অভিযানে কয়েকজন গুরুতর অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শিশু নির্যাতনকারী, ধর্ষক এবং সহিংস অপরাধীরাও রয়েছে। তিনি বলেন, যারা দুর্বল শিশুদের ওপর হামলা চালায় বা নিরীহ মানুষের ক্ষতি করে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। এদিকে ডিএইচএস এর ওয়েবসাইটে গুরুতর অপরাধে জড়িত গ্রেপ্তারকৃতদের ছবি ও তথ্য প্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশির নাম ও ছবি সহ অপরাধের তথ্য রয়েছে।
ডিএইচএস এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলাদেশি নাগরিক কাজী আবু সাঈদকে কানসাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট স্কট এলাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ককে শোষণ, অবৈধ জুয়া পরিচালনা এবং জুয়া সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আরেকজন শাহেদ হাসান, যাকে নর্থ ক্যারোলিনার র্যালি শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গোপনে অস্ত্র বহন এবং দোকান থেকে চুরি করার অভিযোগ রয়েছে। অন্য মোহাম্মদ আহমেদকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন এবং যৌন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এমডি হোসেনকে। তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। ভার্জিনিয়ার চ্যান্টিলি শহর থেকে মাহতাবউদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গাঁজা বিক্রি এবং হ্যালুসিনোজেন জাতীয় মাদক বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মার্লিন শহর থেকে নেওয়াজ খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিপজ্জনক মাদক সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। চুরির অভিযোগে শাহরিয়ার আবিরকে ফ্লোরিডা প্যানস্কলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অপরাধে আলমগীর চৌধুরীকে মিশিগানের মাউন্ট ক্লেমেন্স থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভার্জিনিয়ার মানাসাস শহর থেকে ইশতিয়াক রাফিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র সংক্রান্ত অপরাধ এবং সিন্থেটিক মাদক রাখার অভিযোগ রয়েছে। প্রতারণার অভিযোগে অ্যারিজোনার ফিনিক্স শহর থেকে কনক পারভেজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি আইস ও ফেডারেল এজেন্টদের অভিযানে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।