অতীত নিয়ে সমালোচনার মুখে এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেল

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২২:১২

ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এফবিআই) প্রধান কাশ প্যাটেল। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ছাত্রজীবনে তিনি একাধিকবার আইনি ঝামেলায় জড়িয়েছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, জনসমক্ষে মদ্যপান এবং অশালীন আচরণের কারণে তাকে দুইবার গ্রেফতার করা হয়েছিল।
২০০৫ সালে মিয়ামি-ডেড পাবলিক ডিফেন্ডার অফিসে চাকরির জন্য দেওয়া একটি ব্যক্তিগত চিঠিতে প্যাটেল নিজেই এসব ঘটনার কথা স্বীকার করেন। সেখানে তিনি জানান, নিউইয়র্কে আইন পড়ার সময় বন্ধুদের সঙ্গে অতিরিক্ত মদ্যপান করে ফেরার পথে ফুটপাতে প্রস্রাব করতে গেলে পুলিশ তাদের আটক করে।
এর আগেও, ২০০১ সালে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তিনি আরেকটি ঘটনায় জড়ান। তখন তিনি বৈধ মদ্যপানের বয়সসীমার নিচে ছিলেন। একটি বাস্কেটবল ম্যাচে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস দেখানোর পর নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে সরিয়ে দেয় এবং পরে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মদ্যপানের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা করেছিল, যদিও প্যাটেল দাবি করেছিলেন তিনি অল্পই পান করেছিলেন।
সেই ২০০৫ সালের চিঠিতে তিনি এসব আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এগুলো তার স্বাভাবিক চরিত্রের প্রতিফলন নয়। তবে পুরনো ঘটনাগুলো নতুন করে সামনে আসায় আবারও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এদিকে মার্কিন সাময়িকী দ্য অ্যাটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে তার মদ্যপানের অভ্যাস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, তার অতিরিক্ত মদ্যপান ও হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা সহকর্মীদের উদ্বিগ্ন করেছিল। এমনকি ওয়াশিংটন ও লাস ভেগাসে তার আচরণের কারণে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার কথাও শোনা গেছে।
একটি ঘটনায় তাকে একটি কক্ষে না পেয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা এতটাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন যে দরজা ভাঙার জন্য বিশেষ বাহিনীর সরঞ্জাম চাওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন তার মুখপাত্র এরিকা নাইট। তিনি বলেন, প্যাটেলকে এফবিআই প্রধান করার আগে তার অতীত ভালোভাবেই যাচাই করা হয়েছিল।
প্যাটেল নিজেও দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি কখনো মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন না। তিনি এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলাও করেছেন এবং সমালোচকদের আদালতে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সূত্র: এনডিটিভি