
নিউইয়র্কের কুইন্স বরোর সাউথ ওজোন পার্ক এলাকায় ভোররাতে একটি বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে সাতজন এনওয়াইপিডি পুলিশ কর্মকর্তা, একজন দমকলকর্মীসহ মোট ১১ জন আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনা একটি পারিবারিক বিরোধের সাথে সরাসরি সংযুক্ত।
৩০ মে বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টার দিকে ১০৭-৫৫ ১৩০তম স্ট্রিটের বাড়িটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার সময় পুলিশ একটি ৯১১ কলের প্রেক্ষিতে ওই বাড়িতে সাড়া দিতে যাচ্ছিল। এনওয়াইপিডি বডিক্যাম ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তারা বাড়িতে প্রবেশ করার মুহূর্তেই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাড়িটি আগুনে ছেয়ে যায়।
সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম অনরুপ পরশরাম, বয়স ৫০। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি একটি ছুরি ও পেট্রোলভর্তি দুটি ক্যানিস্টার নিয়ে তার বিচ্ছেদে থাকা স্ত্রীর বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। এনওয়াইপিডির ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সে দুটি আবর্জনার ব্যাগ বহন করছিল যার ভেতরে অজানা পদার্থভর্তি ক্যানিস্টার ছিল। যা পেট্রোল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, পরশরাম বেসমেন্ট অ্যাপার্টমেন্টে — যেখানে তার নিজের আত্মীয়রা থাকতেন — নিজেই আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার দিন শেষেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, তবে কর্তৃপক্ষ মনে করছে সে মারা গেছে। উল্লেখযোগ্য, পরশরামের বিরুদ্ধে তিনটি মেয়াদোত্তীর্ণ সুরক্ষা আদেশ ( রেস্টেইনিং অর্ডার) ছিল।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে এনওয়াইপিডির সহকারী প্রধান ক্রিস্টোফার ম্যাকইন্টশ এটিকে "বিশাল আগুনের বিস্ফোরণ" বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণের ধাক্কায় একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ছিটকে পড়েন। তিনি বলেন, "তারা উঠে দাঁড়িয়েছে, জ্বলন্ত বাড়ির ভেতরে ছুটে গেছে — কারণ কাজটাই তাই দাবি করেছিল, এবং তারা প্রতিদিন এটাই করে।"
পরশরামের বিচ্ছেদে থাকা স্ত্রী, তাদের সন্তান ও দুই নাতি-নাতনি — মোট চারজন পরিবারের সদস্য বাড়ি থেকে পালিয়ে বাঁচতে সক্ষম হন, তাদের মধ্যে তিনজন সামান্য আহত হন। তবে বাড়িটি শেষ পর্যন্ত আগুনে পুরোপুরি ধসে পড়ে। এফডিএনওয়াই জানিয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ড মোকাবেলায় প্রায় ৩০০ জন দমকল ও জরুরি সেবা কর্মী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছিল।
নিউইয়র্কের মেয়র জহরান মামদানি এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পুলিশ ও দমকলকর্মীদের বীরত্বের প্রশংসা করে বলেছেন, "আমি একটি জটিল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আমাদের কর্মকর্তা ও দমকলকর্মীদের অসাধারণ সাহসিকতার জন্য ধন্যবাদ জানাই।" ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পরশরামের মরদেহ খোঁজার জন্য উদ্ধার অভিযান চলছে।