
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের আবেদন ফি অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির এক ফেডারেল বিচারক। আদালতের মতে, এই ফি কার্যত একটি কর, যা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া নির্বাহী প্রশাসন আরোপ করতে পারে না।
ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক লিও টি. সোরোকিন সোমবার দেওয়া রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিটি বাতিল করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী কর আরোপের একচ্ছত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। প্রশাসন ফিটিকে ‘নিয়ন্ত্রক ফি’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলেও এর পক্ষে গ্রহণযোগ্য আইনি ভিত্তি দেখাতে পারেনি।
রায়ে বিচারক আরও উল্লেখ করেন, নীতিটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জনমত গ্রহণ বা আনুষ্ঠানিক পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। অথচ প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, গবেষণা ও আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন শিল্প দীর্ঘদিন ধরে এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের পরিবর্তে তুলনামূলক কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে। তাদের দাবি, ১ লাখ ডলারের ফি আরোপ করলে প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ বেতনের পদে মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগে বেশি আগ্রহী হবে।
বর্তমানে লটারির মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৮৫ হাজার নতুন এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা হয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ কর্মসূচির প্রধান ব্যবহারকারী। তবে ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছিল, নতুন ফি কার্যকর হলে ছোট ব্যবসা ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। নীতিটির বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরে ২০টি অঙ্গরাজ্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট মামলা করে। তাদের দাবি ছিল, এই অতিরিক্ত ফি শিক্ষক, গবেষক, চিকিৎসক ও অন্যান্য দক্ষ পেশাজীবীর ঘাটতি আরও তীব্র করে তুলবে।
রায়ের পর নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার এইচ-১বি ভিসাধারী চিকিৎসক, শিক্ষক ও দক্ষ কর্মী নিউইয়র্কবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে থাকেন। আদালতের এই সিদ্ধান্ত একটি কার্যকর কর্মসূচিকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা রোধ করেছে। তবে বিষয়টির আইনি লড়াই এখনও শেষ হয়নি। কয়েক মাস আগে ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালত অনুরূপ একটি মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়েছিল। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, অভিবাসন আইনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের বিস্তৃত ক্ষমতা রয়েছে। সর্বশেষ রায়ে বিচারক সোরোকিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একাধিক রায়ে স্পষ্ট করেছে যে কংগ্রেসের সরাসরি অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কোনো কর বা আর্থিক জরিমানা আরোপ করতে পারেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন সীমিত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ ছিল। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কাজ ও স্থায়ী হওয়ার সুযোগ সংকুচিত করাই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য।
এদিকে হোয়াইট হাউজ ইতোমধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মুখপাত্র টেইলর রজার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী মনে হলে বিদেশিদের কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রবেশ সীমিত করার স্পষ্ট আইনি ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আপিলে প্রশাসন অনুকূল রায় পাবে।
রায়ের ফলে আপাতত প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গবেষণা খাতের হাজারো নিয়োগদাতা এবং বিদেশি দক্ষ কর্মী স্বস্তি পেলেও বিষয়টি শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতে গড়ানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।