
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ দিয়ে চিঠি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ চিঠি পাওয়ার তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং বলেছে, গত সোমবার হোয়াইট হাউজের প্যাডে পাঠানো ওই চিঠিতে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন, “বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। এ বিষয়ে (বোয়িং ক্রয়) আপনার মনোযোগের কথা ভুলব না।”
শিগগিরই তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট চিঠিতে বলেন, “বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আপনার চিঠিটি আমি এইমাত্র পেয়েছি। উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমি আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।
“বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না, আমিও বিষয়টি ভুলব না। এ বিষয়ে মনোযোগের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। খুব বেশি দিন নয়, অদূর ভবিষ্যতেই আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করছি।
“বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাবেন। তারা অনেক কঠিন সময় পার করেছে। তবে আপনার নেতৃত্বে আমি নিশ্চিত, তাদের এবং বাংলাদেশের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।”
এর আগে গত রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ট্রাম্পের অবদান তুলে ধরতে গিয়ে বাংলাদেশের কাছে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বিক্রির প্রসঙ্গ টানেন।
পোস্টে গোর বলেন, “চলতি সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আরেকটি অসাধারণ চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তাদের প্রাথমিক ক্রয়াদেশের চেয়ে অনেক বেশি।
বিশেষ দূতের এই তথ্য প্রকাশের একদিন পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন।
সোমবার ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতও এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বাংলাদেশ কিনছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ট্রাম্প একটা জিনিস চেয়েছে যে, আমরা যেন বোয়িংগুলো ব্যবহার করি। আমরা করছি, আমরা কিনছি। ১৪টি বোয়িং কিনছি, আরও আমরা লিজ নেব।”
নানা আলোচনার মধ্যে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে গত ৩০ এপ্রিল মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এই এয়ারক্রাফটগুলো বিমানকে সরবরাহ করবে বোয়িং।