সতর্ক অবস্থানে নিউইয়র্ক পুলিশ, বিশৃঙ্খলা করলেই গ্রেপ্তার

তারেক রহমানকে বিএনপির স্বাগত সমাবেশ, আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:০১
বিমানবন্দরে বিএনপির স্বাগত সমাবেশ (উপরে) এবং বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ (নিচে)

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক আগমন ঘিরে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৮ এলাকায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চলছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমাবেশ করছেন, অন্যদিকে অল্প দূরত্বে চলছে তারেক রহমানবিরোধী বিক্ষোভ।
দুই পক্ষ কাছাকাছি অবস্থান নিলেও তাদের মাঝখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করবে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। 
বিএনপির নেতাকর্মীরা বাংলাদেশ ও দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে টার্মিনাল ৮-এর আশপাশে জড়ো হয়েছেন। বিভিন্ন স্লোগানে তারা প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাচ্ছেন। একই সময়ে অপর পক্ষও প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে।
সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতে দুই পক্ষের মাঝখানে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে রেখেছে পুলিশ। বিমানবন্দর এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও দেখা গেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার সকালে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ২৬ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল। ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয় তাঁদের বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি। 
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর কথা রয়েছে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামের।
তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরেই ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা জেএফকে বিমানবন্দরে এসে স্বাগত কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এটিই তারেক রহমানের প্রথম অংশগ্রহণ। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। সফরকালে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।
জেএফকেতে একই সময়ে স্বাগত সমাবেশ ও বিক্ষোভ চলায় পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রয়েছে।