
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা, পেশাগত উৎকর্ষ, সাংস্কৃতিক বন্ধন ও পারিবারিক আনন্দের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জাতীয় পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার (বিএমএএনএ) ৪৫তম বার্ষিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর উটাহর মনোরম সল্টলেক সিটিতে অনুষ্ঠিত এ কনভেনশনে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি চিকিৎসক, তাদের পরিবার ও অতিথিরা অংশ নেন।
এবারের কনভেনশনে চিকিৎসাবিষয়ক বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা, গবেষণা, শারীরিক সুস্থতা, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও পারিবারিক বিনোদনের সমন্বিত আয়োজন ছিল। কনভেনশনের বিভিন্ন চিকিৎসা শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তরুণ চিকিৎসকদের জন্য তরুণ চিকিৎসক ফোরাম ও পোস্টার উপস্থাপনার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি নারী চিকিৎসক ফোরাম, যুব ফোরাম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
কনভেনশনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল শিশু-কিশোরদের জন্য সিপিআর প্রশিক্ষণ। জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষার প্রাথমিক কৌশল সম্পর্কে শিশুদের হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। এ উদ্যোগ অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর মধ্যে বিশেষ প্রশংসা পায়। কনভেনশনের সোমবারের আউটডোর কর্মসূচিও ছিল অন্যতম আকর্ষণ। চিকিৎসক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার কার্যক্রমে অংশ নেন। দিনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অনেকেই প্রায় ১৬ হাজার পদক্ষেপ হাঁটেন।
আউটডোর কর্মসূচিতে ব্রাইডাল ভেইল ফলস, হেরিটেজ পার্ক, ক্যানিয়ন গ্লেন পার্ক এবং উটাহ স্টেট ক্যাপিটল ভবন পরিদর্শন করা হয়। পাশাপাশি হিবার সিটির ঐতিহাসিক ট্রেনে ভ্রমণও চিকিৎসক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আনন্দময় ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
কনভেনশনে চিকিৎসা, মানবসেবা ও সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কয়েকজন চিকিৎসককে সম্মাননা দেওয়া হয়। এতে আজীবন সম্মাননা পান ডা. রফিক আহমেদ। মানবিক সেবা সম্মাননা পান ডা. আজমাল সোবহান ও ডা. এহসানুর রহমান। বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা পান ডা. কমল কলি হোসাইন, ডা. আবদুল বাসেত খান, ডা. মাহবুব রহমান এবং ডা. জাকিয়া হোসাইন লিপা।
কনভেনশনে বিএমএএনএর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. শফিউল হাসানসহ সংগঠনের সাবেক ও প্রবীণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ডা. এহসানুর রহমান, ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ সাদেক, ডা. জিয়াউর রহমান, ডা. মাকসুদ চৌধুরী, ডা. নাজমুল খান ও ডা. চৌধুরী হাফিজ এ আহসানসহ আরও অনেকে ছিলেন। প্রবীণ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি, তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংগঠনের দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচারণ কনভেনশনে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
কনভেনশনের বিভিন্ন পর্বে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্য আসর। সাহিত্য আসর পরিচালনা করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক সংবাদ পাঠক ডা. মইনুদ্দিন মুন্সী। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও ছিল নানা বিনোদনমূলক আয়োজন। কনভেনশন উপলক্ষে বিশেষ ম্যাগাজিন ও স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। এতে বিএমএএনএর কর্মকাণ্ড, চিকিৎসকদের লেখা, গবেষণা, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন স্মৃতিচারণ স্থান পায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএমএএনএর সভাপতি ডা. আয়েশা শিকদার, মহাসচিব ডা. আহমেদ মোরশেদ, কনভেনর ডা. তানভীর হোসেন কেনেডি এবং কো-কনভেনর ডা. ফিরোজ হোসেন।
এবার চিকিৎসকদের নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়েও একটি স্বাস্থ্য সচেতনতা জরিপ পরিচালনা করা হয়। প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডা. ইউসুফ আল মামুনের পরিচালনায় অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকদের দেহের ভরসূচক, রক্তে দীর্ঘমেয়াদি শর্করার মাত্রা, উচ্চ রক্তচাপ এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে একটি তাৎক্ষণিক গবেষণা পরিচালনা করে কনভেনশনে তা উপস্থাপন করা হয়।
কনভেনশনের প্রতিটি কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।