যুবদল নেতা সুমন হত্যা মামলা 

শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

চার্জশিটের গ্রহনযোগ্যতার শুনানির ৮ মার্চ
ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২৬


জুলাই আন্দোলনের শেষ দিনে যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান সুমন (৪১) হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে পুলিশ। তবে, তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুসহ ৬৩ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। 
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন শাখার কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, চার্জশিটের গ্রহনযোগ্যতার শুনানির জন্য আগামি ৮ মার্চ দিন ধার্য রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এন্টি টেররিজম ইউনিটের ইনভেস্টিগেশন শাখার পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান খাঁন গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে  চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। 
চার্জশিটে শেখ হাসিনা ছাড়াও উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত (এ আরাফাত), সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক। এছাড়াও সরাসরি হামলায় জড়িত হিসেবে আব্দুর রহমান রাসেল, মো. রায়হান ওরফে রাহেল, লম্বু রানা ও সোহাগসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। 
অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন, নজরুল ইসলাম, রায়হান, তারিক হাসান কাজল, কাজী কবির, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ মকবুল চেয়ারম্যান, খন্দকার মোহাম্মদ সেলিম, ইফতেখারুল আলম হিরক, রাইসুল ইসলাম শাকিল, সাইফুল ইসলাম ওরফে রুম্মন, ফরিদুর রহমান খান ইরান, ইকরামুল কবির লাভলু, আসাদুজ্জামান দুলাল, জাবেদুর রহমান দুরান, রুম্মান বিন মাসুদ সাব্বির, মিন্টু চৌধুরী, মনোয়ার হোসেন সোহেল ওরফে লাদেন সোহেল, ফেরদৌস আলম শাহীন ওরফে কোট্টা শাহীন, রেজাউল করিম, আবুল হাসনাত দুলাল, নাবিদুর রহমান, কালী মনির ওরফে মনি সিং, আবু দায়েন মীর, তাজুল ইসলাম পলাশ ওরফে পিচ্চি পলাশ, মেহেদী হাসান মনির, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, জ্যোতি প্রকাশ বড়ুয়া, শাহজাহান, তানজিন আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন চুন্নু, অলি-উল্লাহ অলি, শাহজাহান মজুমদার, এসএম অলি উল্লাহ ওলি, আবুল, ফোরকান হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, সজিব, আবু সাদেক, সাব্বির আহমেদ লিটু, ফজলুল আহমেদ অপু, বাপ্পি, হাসিনুর রহমান, আসিফ হাসান, সিজার, সৈয়দ জিয়াউল আহসান, আবুল হোসেন, রুহুল আমিন, কাইয়ুম, আব্দুর রাজ্জাক, মাহে আলম, আব্দুল কুদ্দুস ওরফে নাডা কুদ্দুস, টুটুল, বি কে পাইক বাবু, এমএস কিবরিয়া মজুমদার, পাপ্পু, কালু বাবু, শাহ আলম, দেলোয়ার হোসেন সোহাগ ওরফে শ্যুটার সোহাগ, নাসির উদ্দিন সাগর, সাদ্দাম, সালাম।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবরে শেরেবাংলা নগর এলাকায় আনন্দ মিছিলে অংশ নেন ২৭ নং ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন ও তার ভাগ্নে আ. রহিম। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের সশস্ত্র নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। আসামিরা সুমনকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় ও বাম হাতে কোপানোর পাশাপাশি রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ড্রেনে ফেলে দেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ১১ আগস্ট তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 
এ ঘটনায় ওই বছরের ৯ অক্টোবর সুমনের স্ত্রী মোসা. বিথী খাতুন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে শেখ হাসিনাসহ ৬৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০-৩০ জনকে আসামি করা  হয়।