
সড়কবাতির উৎপাদন দেখতে ১১ দিনের জন্য ফ্রান্স সফরে যাবেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রসিক) প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। তার সফরসঙ্গী হচ্ছেন রাসিকের বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান সুইট।
প্রস্তাবিত সফরসূচি অনুযায়ী প্রশাসক ও প্রকৌশলী আগামী ২০ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ফ্রান্সে অবস্থান করবেন। দেখবেন নগর আলোকায়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন শহর এবং ফ্রান্সে অবস্থিত সিগনিফাই কোম্পানির সড়কবাতি তৈরির কারখানা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া। সিগনিফাই বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি বহুজাতিক কোম্পানি রসিক প্রশাসক ও প্রকৌশলীর ভ্রমণ খরচ বহন করবে।
জানা গেছে, সিগনিফাই বাংলাদেশ লিমিটেড আলোকায়ন ও প্রযুক্তিভিত্তিক একটি বহুজাতিক কোম্পানি। বিশ্বখ্যাত ডাচ কোম্পানি ফিলিপস লাইটিংয়ের একটি সহযোগী কোম্পানি সিগনিফাই বাংলাদেশে তাদের পণ্য সরবরাহ ও বিক্রি করে। সিগনিফাই আগামীতে রাজশাহী নগরীতে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারসহ নতুন সড়কগুলো আলোকায়নের পরবর্তী কাজগুলো করার জন্য ইতোমধ্যে রাসিকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
রাসিকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিগনিফাই থেকে ফ্রান্স ভ্রমণের অফার পাওয়ার পর গত ১২ মে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দাপ্তরিক পত্র প্রেরণ করেছেন। রসিক সচিব প্রেরিত পত্রে প্রশাসক ও প্রকৌশল কর্মকর্তার বিদেশ সফরসূচি অনুমোদন ও অনাপত্তি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির অনুরোধ করেছেন। তবে রসিক প্রশাসক ও প্রকৌশলীর ফ্রান্স সফরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনাপত্তির প্রয়োজন (এনওসি) হবে যা মন্ত্রণালয় থেকেই সম্পাদন করা হবে।
এদিকে মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত রাসিকের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে- রসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন ও নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান সুইট ফ্রান্সে অবস্থিত সিগনিফাই কোম্পানির লাইটিং সেন্টার পরিদর্শক করবেন। প্রশাসক ও প্রকৌশলী এ সময় নতুন বিদ্যুৎসাশ্রয়ী সড়কবাতি উৎপাদন প্রক্রিয়া ও প্রযুক্তি পরিদর্শন করবেন এবং এ সংক্রান্ত জ্ঞান আহরণ করবেন। আগামীতে রাজশাহী নগরীতে চারটি ফ্লাইওভারসহ নতুন সড়কগুলো আলোকায়নে সিগনিফাই ইতোমধ্যে আগ্রহ প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন বলে রসিক সূত্রে জানা গেছে।
এরই ফলশ্রুতিতে সিগনিফাই বাংলাদেশ লিমিটেডের আমন্ত্রণে ও খরচে রসিক প্রশাসক ও প্রকৌশলী ফ্রান্স সফর করবেন বলে সম্প্রতি রাসিকের একটি সভায় চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে সিগনিফাই বাংলাদেশের কর্মকর্তা (ব্যবস্থাপক) মেহেদী হাসান জানান, আমাদের কোম্পানির অত্যাধুনিক লাইটিং ম্যান্যুফাকচারিং প্ল্যান্ট আছে ফ্রান্সে। সেখানে প্রস্তুতকৃত উচ্চ প্রযুক্তির সড়কবাতি আমরা বাংলাদেশে আমাদের বিধিবদ্ধ ডিলার, এজেন্ট ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করি। রাজশাহী সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে আমাদের তৈরি সড়কবাতি ব্যবহার করছেন অথবা আগামীতে করবেন বলে আমরা আশা করছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্যাদেশ অনুযায়ী ক্রেতা প্রতিষ্ঠান আমাদের পণ্য ও সেবা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন। ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়া দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগেও ফ্রান্সে আমাদের প্ল্যান্ট ও উৎপাদন প্রক্রিয়া দেখতে গিয়েছেন। আমরা রসিক প্রশাসক ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফ্রান্সে নিয়ে আমাদের উৎপাদন প্ল্যান্ট দেখার আমন্ত্রণ জানাই। তারা সেটা গ্রহণ করেছেন। আমরাই ফ্রান্স ভ্রমণের পুরো খরচ বহন করছি।
অন্যদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী নগরের প্রশস্ত সড়কগুলোতে সাবেক মেয়রের আমলে লাগানো সড়কবাতিগুলো খুলে সিগনিফাইয়ের প্যারেন্ট কোম্পানি ফিলিপস ব্র্যান্ডের সড়ক বাতি লাগানো হচ্ছে। সিগনিফাই কোম্পানির স্থানীয় ডিলারদের কাছ থেকে রসিক অনানুষ্ঠানিকভাবে এসব বাতি সরবরাহ নিচ্ছে। আগামীতে ফ্লাইওভারগুলোতে সিগনিফাইয়ের ফিলিপস বাতি লাগানো হতে পারে। বাতি সরবরাহের বড় চুক্তি হবে রাসিকের সঙ্গে। প্রশাসকের ফ্রান্স সফরের পর বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে রাসিকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে।
সিগনিফাই কোম্পানির খরচে প্রশাসক ও প্রকৌশলীর বিদেশ সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে রাসিকের সচিব মো. রেজাউল করিম কথা বলতে সম্মত হননি। বিষয়টি নিয়ে রাসিকের বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান সুইটও কোনো কথা বলতে চাননি।
সর্বশেষ রসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আসলে এ ধরনের বিদেশ সফর নতুন কোনো ঘটনা নয়। সাবেক মেয়ররাও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের খরচে বিদেশ সফর করেছেন যা দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও প্রচলন রয়েছে। নগর আলোকায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা বিভিন্ন কোম্পানির মানসম্মত লাইট কিনে থাকি। আমরা এজেন্ট বা ডিলারের কাছ থেকে পণ্য কিনি; কিন্তু আমরা সরাসরি দেখতে চাই যে পণ্যগুলো প্রকৃত কোম্পানি তৈরি করছে কিনা। উৎপাদন প্রক্রিয়া দেখাও দরকার। এমন বড় কোনো ঘটনা বা অন্য কিছু নয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আসলে আমরা পূর্ব নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী ফ্রান্সে যাব। তবে যতদিনের সময় বলা হচ্ছে- হতে পারে সাত দিনের মধ্যেই আমরা দেশে ফিরতে পারব।