মার্কিন ইমিগ্রান্ট ভিসা স্থগিতাদেশ বহাল

ঢাকায় প্রক্রিয়াকরণ দ্রুত শুরু হলেও ভিসা মিলছে না

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০২ জুন ২০২৬, ২০:৩৮

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রান্ট ভিসা কার্যক্রমের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ এখনো বহাল রয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদান ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে আইনি লড়াই চলমান।
এদিকে স্থগিতাদেশ বহাল থাকলেও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ১ জুন থেকে ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করেছে। দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে সব ধরনের ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদন দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। আবেদনকারীরা আগের মতোই আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। তবে বর্তমান স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ভিসা ইস্যু করা হবে না এবং আবেদনকারীরা পাসপোর্টে ভিসা পাবেন না।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর কিছু অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বহন করেন, যা ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মী, আইনজীবী এবং বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছে।
তাদের দাবি, জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো দেশের নাগরিকদের জন্য সামগ্রিকভাবে ইমিগ্রান্ট ভিসা বন্ধ করে দেওয়া মার্কিন অভিবাসন আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। এ বিষয়ে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে চলমান CLINIC v. Rubio মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট জাতীয়তার ভিত্তিতে ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদানে বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে এবং ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর একযোগে নিষেধাজ্ঞা সেই আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।
মামলাটি ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়। বাদীপক্ষের মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল সেন্টার, ডেমোক্র্যাসি ফরওয়ার্ড, লিগাল এইড সোসাইটি অব নিউইয়র্ক, সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটসসহ একাধিক অধিকারভিত্তিক সংগঠন। এছাড়া এমন কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও মামলায় যুক্ত আছেন, যারা এই নীতির কারণে তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনতে পারছেন না।
বাদীপক্ষ আদালতের কাছে চারটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছে। তারা চায় আদালত এই নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করুক, স্থগিতাদেশ স্থায়ীভাবে বাতিল করুক, স্টেট ডিপার্টমেন্টকে আগের নিয়মে প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দিক এবং যেসব আবেদনকারী এই নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের নতুন করে সুযোগ দেওয়া হোক।
বর্তমানে মামলাটি ‘ক্রস-মোশন ফর পার্শিয়াল সামারি জাজমেন্ট’ পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আদালত বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদান পুনরায় শুরু হতে পারে মূলত দুটি উপায়ে— হয় ফেডারেল আদালত স্থগিতাদেশ বাতিলের নির্দেশ দেবে, অথবা প্রশাসন নিজ উদ্যোগে নীতিটি প্রত্যাহার করবে।
উল্লেখযোগ্য যে, এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র ইমিগ্রান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফলে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা অর্জনের জন্য আবেদনকারীরাই মূলত এর প্রভাবের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে পর্যটন, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অ-অভিবাসী ভিসা— যেমন বি-১/বি-২, এফ-১ এবং এইচ-১বি— এই স্থগিতাদেশের আওতাভুক্ত নয়।
তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য বি-১/বি-২ ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দেওয়ার একটি নতুন শর্ত যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফলে বর্তমানে ঢাকায় ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ চালু হলেও, স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে— কবে আবার ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদান স্বাভাবিক হবে।