হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ‘কোটি টাকা ডিলের’ অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৫ জুন ২০২৬, ২৩:২৬


জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তিন কোটি টাকার ডিল’ করার তথ্য ফাঁস করায় ছাত্রদল নেতা আব্দুল গাফফারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামে গাফফারের পৈতৃক বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।   
ভুক্তভোগী গাফফার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামের মাওলানা মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে। গাফফার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। 
ঘটনার পরপরই হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদল স্থানীয় সাগরিয়া বাজারে এ হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। 
আব্দুল গাফফার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হান্নান, রিফাত ও মাহিম সেফ হোমে ছিল। তখন আমিই হান্নান মাসউদকে সেফ করছি। তখন তাদের সবগুলো ভিডিও থেকে সব কাজ আমি করে দিতাম। হাতিয়ার রাজনীতিতে তাকে আমিই প্রতিষ্ঠিত করেছি। তার কারণে হান্নানের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার রাজনৈতিক গার্ডিয়ান হিসেবে ৫ আগস্টের পর দেড় মাস আমি তার সঙ্গে ছিলাম। যার কারণে তার অনেক কিছু আমি জানি। ৫ আগস্টের পর তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পৌঁছে দিতে পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিনি ৩ কোটি টাকা দাবি করেন। তখন এতে আমি বাধা দেই। 
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হান্নানের ৩ কোটি টাকা দাবির এ ঘটনা গত বুধবার (৩ জুন) গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনকে জানাই। পরে এ নিয়ে তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। পরে আমি রাশেদ খাঁনের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমার ফেসবুকে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর থেকে হান্নান মাসউদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর থেকে তার অনুসারীরা আমাকে ফেসবুকে নানা রকম হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। একপর্যায়ে হান্নান মাসউদকে আমাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, ওইসব লোকজন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা তার কথা শুনেনা। তারা যা করার করুক।    
এই ছাত্রদল নেতা আরও বলেন, সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তিন কোটি টাকা দাবির তথ্য ফাঁসের জেরে হান্নানের যোগসাজশে তার অনুসারীরা আমার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারীরা আমাদের ভবন ও জানালা ভাঙচুর করে, প্রধান ফটকে হামলা করে। পরবর্তীতে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যায়। আমার বৃদ্ধ মা জান্নাত আরা বেগম (৬০) ও বাবা মোছলেহ উদ্দিন (৬৯) একাই বাড়িতে থাকেন। তারা আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং এখনও ভয়ে আছে। মা-বাবা বলছে আমি যেন আর কোনো বক্তব্য না দেই। আবারও তারা বাড়িতে হামলার আশঙ্কা করছে।  
হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তিন কোটি টাকা দাবির বক্তব্য দেওয়ায় গত দুদিন ধরে ছাত্রদল নেতা গাফফারকে প্রকাশ্যে হান্নান মাসউদের অনুসারী এনসিপি নেতাকর্মীরা হুমকি-ধমকি দেয়। যারা হুমকি দিয়েছে তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। 
হাতিয়া উপজেরা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল তিবরিজ বলেন, ছাত্রদল নেতা গাফফার দৃঢ়ভাবে বলছে এটা এনসিপির নেতাকর্মী করেছে। তাহলে আমরা ধরে নেব, তারা নিজেরাই ভাইরাল হওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় এমপি মোবাইলে আমাকে বিষয়টি অবহিত করলে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।   
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, আমার নিজের বাড়িতে হামলা হয়। আমি সেগুলো ট্যাকেল দিয়ে উঠতে পারিনা, আমি আরেকজনের বাড়িতে হামলা করব কীভাবে? এটা পুরোপুরি একটা সাজানো নাটক করা হয়েছে, যাতে করে আমাকে হেয় করা যায়। চেষ্টা করে যাক, দেখা যাক কী করতে পারে।   
হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন বলেন,  এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।