চার মাস পর রুদ্ধশ্বাস যাত্রার অবসান ‘বাংলার জয়যাত্রা’র

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৪ জুন ২০২৬, ১৭:৩৯


বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় গভীর রাত ৩টায় জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।
এর মধ্য দিয়ে প্রায় চার মাস পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর এক রুদ্ধশ্বাস যাত্রার অবসান হলো।
জাহাজটি বর্তমানে আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে জ্বালানি (বাংকারিং) গ্রহণের পর দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘১১৫ দিন পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা বাংলার জয়যাত্রা সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এরপর জাহাজটির পরবর্তী বাণিজ্যিক গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দর।’
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) সূত্র জানায়, বিএসসির মালিকানাধীন ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি কোম্পানির অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে ভেড়ার পরদিনই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরু হয়। এরপর থেকে পারস্য উপসাগরে আটকে ছিল জাহাজটি। মাঝে একাধিকবার প্রণালি পাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে চ্যানেলের কাছাকাছি অবস্থান নিলেও তা সফল হয়নি। এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি সইয়ের পর বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালির ৮০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে অবস্থান নিয়ে প্রণালি পাড়ি দিতে আইআরজিসির অনুমতির অপেক্ষায় ছিল।
সোমবার বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ পাড়ি দিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অনুমোদন পায়। এরপর বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে শারজাহ বন্দরের বহির্নোঙর থেকে হরমুজ প্রণালির চ্যানেলের দিকে রওনা হয়।
জানা গেছে, জাহাজটির ৩১ জন নাবিকের সবাই বাংলাদেশি। জাহাজটি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের বহির্নোঙরে যায়। পরদিন ওই বন্দরের ১০ নম্বর টার্মিনালে ভেড়ে; কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়। বন্দরে ভেড়ার একদিন পরেই জাহাজ থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলার পর আগুন ধরে যায়। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জেবেল আলী বন্দরের টার্মিনালে অবস্থানের মধ্যেই বন্দরের একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ড্রোন ও মিসাইলের আনাগোনার মধ্যে ‘বাংলার জয়যাত্রার’ নাবিকরা উদ্বেগ নিয়ে দিন পার করতে থাকেন।
‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ ২০১৮ সালে বিএসসির বহরে যুক্ত হয়। ৩৯ হাজার টন ধারণক্ষমতার জাহাজটি নির্মাণ করে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)। চীন সরকারের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নে জাহাজটি কেনা হয়েছিল।