যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ৫ কোটি ২ লাখ, মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২১ জুন ২০২৬, ১৪:০৩

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে এখন দেশটির জনসংখ্যার একটি বড় অংশে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ সরকারি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ২ লাখ। এটি মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪.৮ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ৭ জনে ১ জন।
এই তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন জনসংখ্যা সংস্থা মার্কিন জনসংখ্যা সংস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরো এবং বিশ্লেষণ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউএসএফ্যাক্টস।
২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ২৪ লাখ। গত এক দশকে এই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০২৪ সালে ৫ কোটি ২ লাখে পৌঁছেছে। একই সময়ে মোট জনসংখ্যার মধ্যে অভিবাসীদের অংশও ১৩.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪.৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
রাজ্যভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসীদের হার সবচেয়ে বেশি, যা ২৭.৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে নিউ জার্সি ২৫ শতাংশ, নিউইয়র্ক ২৩.৩ শতাংশ, ফ্লোরিডা ২৩.১ শতাংশ, নেভাডা ১৯.৯ শতাংশ, ম্যাসাচুসেটস ১৮.৮ শতাংশ, হাওয়াই ১৮.৬ শতাংশ, টেক্সাস ১৮.৪ শতাংশ, মেরিল্যান্ড ১৭.১ শতাংশ এবং ওয়াশিংটন ১৬.১ শতাংশ। বড় শহর ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতেই অভিবাসীদের ঘনত্ব বেশি দেখা যায়, কারণ সেখানে কাজের সুযোগ, শিক্ষা এবং উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি।
মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে মায়ামিতে অভিবাসীদের হার সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪২.৪ শতাংশ, যা অন্যান্য শহরের তুলনায় অনেক বেশি। অন্যদিকে কিছু ছোট শহরে এই হার ১ শতাংশেরও নিচে।
অর্থনীতিতে অভিবাসীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের বিভিন্ন খাতে যেমন পরিষেবা, নির্মাণ, প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যখাতে বড় অবদান রাখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসন শুধু জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নয়, বরং এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রমঘাটতি পূরণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অভিবাসী-আকর্ষণকারী দেশ হিসেবে অবস্থান করছে। প্রতি সাতজনের একজন বিদেশে জন্ম নেওয়া হওয়ায় দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে অভিবাসীদের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী বছরগুলোতে এই হার আরও বাড়তে পারে, যা দেশটির অভিবাসন ও জননীতি উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।