
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শিবিরের ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী নিয়ে ছাত্রদলের সঙ্গে শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যার পর থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়ে কয়েক দফায় চলে। এতে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অর্ধ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে যান চলাচল প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকে। ফলে ঢাকার সঙ্গে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিক, ছাত্রশিবির-সমর্থিত বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদের জিএস পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান এবং শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমতিতে সকাল থেকেই 'জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই' শীর্ষক এলইডি স্ক্রিনে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীসহ জুলাই ও বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ব্যানার ফেস্টুন প্রদর্শন করছিল বেরোবি শাখা ছাত্রশিবির।
তবে, একটি ফেস্টুনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মীর কাশেম আলীসহ বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছবি ছিল। ছাত্রদল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওই ফেস্টুন সরানোর দাবিতে প্রোগ্রামস্থলে গেলে দুপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
ছাত্রশিবির নেতাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর প্রদর্শনীস্থলে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত জামায়াতের ৫ নেতা ও বিএনপির এক নেতা ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডেরে শিকার’ উল্লেখ করা ব্যানার সরিয়ে নিতে বলে। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ধাওয়া পালটা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে।
শিবিরের দাবি, একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্ট্যাম্প দিয়ে শিবির নেতা মেহেদী হাসানসহ কয়েকজনকে মারধর করে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে প্রদর্শনীস্থলের সামনে শিবিরের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। অন্যদিকে মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় উভয়পক্ষ পালটাপালটি স্লোগান দিতে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের কর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজনা আর তীব্র হয়ে উঠে। উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অর্ধ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে যান চলাচল প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকে। ফলে ঢাকার সঙ্গে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
শিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব বলেন, ‘প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আমরা একটি প্রোগ্রাম আয়োজন করেছি। সেখানকার একটি ব্যানার নিয়ে ছাত্রদল আপত্তি করে, তারা প্রশাসনকে না জানিয়ে কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে আসে এবং আমাদের ওপর আক্রমণ করে। সবকিছু সমাধান করার চেষ্টা করছি, কিন্তু যদি কোনো কিছু ঘটে তার দায় ছাত্রদলকে নিতে হবে।
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়ামিন অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার টাঙানো হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেই ব্যানার সরানোর দাবি জানালে শিবিরের পক্ষ থেকে হামলা করা হয়। এতে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে একটি ব্যানার নিয়ে আপত্তি তুলে ছাত্রদল, এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগের উস্কানিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। আমরা উভয়পক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করব।
সংঘর্ষ চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের সহিংসতাকে সমর্থন করে না। তিনি শিক্ষার্থীদের সহনশীলতা বজায় রেখে ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন।