
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মসজিদের ইমাম ও খাদেমের নাম পরিবর্তন করে সরকারি সম্মানী ভাতার তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে পাঁজিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাসুদ কামাল ও ২নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুল মোতালেব মোল্লাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গা বাইতুন নূর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান এবং খাদেম হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এরই মধ্যে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার তালিকা প্রণয়নের সময় প্রকৃত ইমাম ও খাদেমের নাম বাদ দিয়ে সেখানে মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার ও জামায়াত নেতা তাজবীর রহমান এবং খাদেমের জায়গায় ২নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুল মোতালেব মোল্লার নাম অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার মুসল্লিরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোক্তার আলীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দলের নেতাদের নির্দেশ দেন।
এরপর স্থানীয় জামায়াত নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে গড়ভাঙ্গা বাইতুন নূর জামে মসজিদের নাম ওই তালিকা থেকে বাদ দিয়ে পাশের পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ইমাম, খাদেম ও মুয়াজ্জিনের নাম নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেন।
এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্দেশে ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কেশবপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সাইদুর রহমান সাইদ যুগান্তরকে বলেন, রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে কর্মপরিষদের বৈঠকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে পাঁজিয়া ইউনিয়নের ওই দুই নেতাকে দলীয় দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।