
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ক্ষোভ। তা থেকে ফেসবুকে এক মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ভিডিও। সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগাল করার সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাজীপুরের ইনকিলাব মঞ্চের তরুণ কর্মী সিফাত আবদুল্লাহকে আটক করেছে পুলিশ। কটূক্তির অভিযোগে আটক করা হলেও আদালতে পাঠানোর সময় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে গত জুনে করা একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায়।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মহানগরীর গাছা থানা পুলিশ কড়া নিরাপত্তায় সিফাতকে (২৫) আদালতে পাঠায়। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার গুলমাইজ গ্রামের সিকান্দার আলীর ছেলে সিফাত গাছা থানা এলাকায় বসবাস করেন। তিনি রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে সিফাতকে আটক করে মহানগরীর গাছা থানা পুলিশ। ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও কটূক্তির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গাছা থানার ওসি গোলাম রব্বানী বলেন, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তার অপরাধের সঙ্গে যে মামলা মিল আছে, সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খান বলেন, মানহানি মামলা ছাড়া সিফাতের বিরুদ্ধে কোনো মামলা চলে না। আর যা হবে তা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। জুমার নামাজের আগে অতি গোপনে সিফাতকে জেলে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, গাছা থানার ওসি বলেছেন, অশালীন ভাষা প্রয়োগের জন্য সিফাতের বিরুদ্ধে মামলা রজু করবে। অথচ পুরোনো একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গালাগালের কয়েকটি শব্দ সমর্থন যোগ্য না, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রতিবাদ কোন অর্থে অগণতান্ত্রিক?
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সিফাত দাবি করেন, চলতি মাসে তার বাসায় চার হাজার টাকা এবং আগের মাসে পাঁচ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। বিলের এই অঙ্ক অতিরিক্ত উল্লেখ করে ক্ষোভ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি এবং অশ্লীল গালাগাল করেন। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের নজরে আসে বিষয়টি। এর পর রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিফাতকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার মুক্তির দাবিতে এনসিপির নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার রাতে গাছা থানার সামনে অবস্থান নেন। পরে সেখানে যান বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরাও। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাত ২টার দিকে এনসিপির নেতাকর্মীরা থানা এলাকা ত্যাগ করেন।
নাছের খান দাবি করেন, ইনকিলাব মঞ্চের এই কর্মী সরকারের বিভিন্ন অনিয়ম ও বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো নিয়ে সোচ্চার ছিলেন।