
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ফের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন। রাশেদ খান দাবি করেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই নীরব থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের আবার সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে।
তিনি উদাহরণ হিসেবে ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজার কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে শেখ হাসিনার জন্মদিনে মাশরাফি কোনো পোস্ট করেননি। তবে ২০২৬ সালে এসে তিনি শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করেছেন।
রাশেদ খান লেখেন, ‘১৬ বছর ধরে প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বত্র ফ্যাসিবাদ কায়েমের নিমিত্ত শেখ হাসিনা যাদের তৈরি করেছিলো, তারা গত ২টা বছর ঘাপটি মেরে থাকলেও এখন বেশ সক্রিয় হতে শুরু করেছে। ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল তার একটি ছোট্ট উদাহরণ।
তিনি বলেন, এতবড় গণহত্যার পরেও কেন আওয়ামীলীগ ফিরে আসার সাহস দেখাচ্ছে? এর মূল কারণটা বর্তমান বিরোধীদল জামায়াত-এনসিপি রাষ্ট্রকে অশান্ত করার ঠিকাদারি গ্রহণ করেছে। লংমার্চ থেকে ডিসেম্বরে সরকার পতনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বিএনপির এ নেতার মতে, বিরোধীদলের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে বাসে-ট্রেনে আগুন দেওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিলা মিছিল শুরু করেছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ।
রাশেদ খান বলেন, জামায়াত-এনসিপি আওয়ামীলীগের আগুন সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিয়ে বলছে, ১১ দলের দাবি মানলে আর ককটেল ফুটবে না! এভাবে জামায়াত- এনসিপির আশকারায় প্রশাসন থেকে শুরু করে যেসকল জায়গায় আওয়ামী দোসররা ঘাপটি মেরে বসে ছিলো, তারা বেশ সক্রিয় হতে শুরু করেছে।
তিনি লেখেন, সব মিলিয়ে একটা ফ্যাসিস্ট এবং আরেকটা হঠকারী বিরোধীদলের অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশ চালাতে হচ্ছে বিএনপি সরকারকে। সম্প্রতি রাড্ডা ক্লিনিক ও নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলা সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ। প্রধানমন্ত্রী সফলভাবে জাতিসংঘ সফর শেষ করে দেশে ফেরার পর এসংক্রান্ত আলোচনা হওয়ার কথা। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে আলোচনা ভিন্ন দিকে নেওয়া হয়েছে।