​নতুন পাবলিক চার্জ নীতি কার্যকর, গ্রিন কার্ডে বাড়ল নজর

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২০

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিতে বড় পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে। নতুন ফেডারেল নিয়মে গ্রিন কার্ডসহ নির্দিষ্ট অভিবাসন আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারী বা কিছু ক্ষেত্রে তার নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যের আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি আগের তুলনায় বিস্তৃতভাবে বিবেচনা করতে পারবেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। তবে কোনো সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই গ্রিন কার্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে—এমন নিয়ম করা হয়নি। বরং আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আয়, সম্পদ, শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থানসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ২০ জুলাই ২০২৬ নতুন চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ বিধান বাতিল করা হয়েছে। নতুন নিয়ম ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয় এবং ওই তারিখ বা তার পর জমা দেওয়া নির্দিষ্ট অ্যাডমিশন ও অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ১৮ সেপ্টেম্বরের আগে পাওয়া সুবিধা ২০২২ সালের নিয়ম অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।
‘পাবলিক চার্জ’ বলতে এমন একটি অভিবাসন-সংক্রান্ত মূল্যায়নকে বোঝায়, যার মাধ্যমে সরকার নির্ধারণ করে কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে প্রধানত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রাখেন কি না। নতুন নিয়মে আগের মতো নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের সুবিধার মধ্যে মূল্যায়ন সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বরং আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে দেওয়া যেকোনো ‘মিনস-টেস্টেড পাবলিক বেনিফিট’ আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
২০২২ সালের নিয়মে মূলত নগদ সরকারি সহায়তা এবং সরকার-অর্থায়িত দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবা—যেমন মেডিকেইডের অর্থায়নে নার্সিংহোমে দীর্ঘমেয়াদি যত্ন—পাবলিক চার্জ মূল্যায়নের আওতায় ছিল। নতুন নিয়মে এই নির্দিষ্ট সীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে স্ন্যাপ বা খাদ্য সহায়তা, মেডিকেইড, কিছু আবাসন সহায়তা এবং অন্যান্য আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি কর্মকর্তারা কেসভিত্তিকভাবে বিবেচনা করতে পারেন।
নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় স্ন্যাপ, মেডিকেইড, সিএইচআইপি, কিছু অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট মার্কেটপ্লেস কভারেজ, সেকশন-৮ আবাসন সহায়তা, হোম এনার্জি সহায়তা, পোস্ট-সেকেন্ডারি শিক্ষার কিছু আর্থিক সহায়তা, ডব্লিউআইসি, টিইএফএপি, সিএসিএফপি এবং কিছু কর সুবিধার ব্যবহার নিয়ে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এসব সুবিধার কোনো একটিকে এককভাবে গ্রিন কার্ড বাতিলের কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি।
পরিবারের অন্য সদস্যের সুবিধা গ্রহণ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রস অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্স জানিয়েছে, কোনো নির্ভরশীল সদস্য—এমনকি মার্কিন নাগরিক সন্তান—সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলে সেটি আবেদনকারীর বিরুদ্ধে একমাত্র ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। তবে ওই সময়ের পারিবারিক আয় ও অন্যান্য আর্থিক পরিস্থিতি সামগ্রিক মূল্যায়নে বিবেচনায় আসতে পারে।
সব অভিবাসী বা সব ধরনের আবেদন এই নিয়মের আওতায় পড়ে না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, নাগরিকত্বের আবেদনকারী, গ্রিন কার্ড নবায়নকারী, শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, নির্দিষ্ট টি বা ইউ ভিসা-সংক্রান্ত আবেদনকারী, ভিএডব্লিউএ সেলফ-পিটিশনার এবং স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট জুভেনাইলসহ বিভিন্ন শ্রেণি পাবলিক চার্জ মূল্যায়ন থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। কোন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা তার অভিবাসন স্ট্যাটাস ও আবেদনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
নতুন নিয়মের ক্ষেত্রে ১৮ সেপ্টেম্বরের তারিখটি গুরুত্বপূর্ণ। ওই তারিখের আগে পাওয়া মিনস-টেস্টেড সুবিধা ২০২২ সালের নিয়ম অনুযায়ী বিবেচিত হবে। অন্যদিকে ১৮ সেপ্টেম্বর বা তার পর সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি নতুন কাঠামোর অধীনে বিবেচনায় আসতে পারে। ফলে অতীতে কোনো সরকারি সুবিধা নেওয়া হয়েছে বলেই সেটি নতুন নিয়মে একইভাবে গণ্য হবে—এমন নয়।
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি সংস্থাগুলো অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় সরকারি সুবিধা নিজেরা থেকে বন্ধ না করার পরামর্শ দিয়েছে। সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা এবং পাবলিক চার্জ মূল্যায়ন—দুটি আলাদা বিষয়। তাই শুধু আশঙ্কা বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে স্ন্যাপ, মেডিকেইড বা প্রয়োজনীয় অন্য সহায়তা বন্ধ করলে পরিবার আর্থিক বা স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পড়তে পারে। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিবাসন আইনজীবী বা স্বীকৃত আইনি সেবা প্রদানকারীর পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে নতুন পাবলিক চার্জ নিয়ম নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জও হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটি, শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকোসহ কয়েকটি শহর ও কাউন্টি নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে মামলা করে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বেও পৃথক আইনি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। মামলাকারীদের বক্তব্য, নতুন নিয়মে সরকারি সুবিধা কীভাবে বিবেচনা করা হবে, সে বিষয়ে যথেষ্ট স্পষ্টতা ও সীমারেখা নেই। অন্যদিকে ফেডারেল সরকার নতুন নিয়মের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।