
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। বহুল কাঙ্ক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে ভরাডুবির পথে রিপাবলিকান দল। রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিকস, ইউ.গভ, সিএনএন ও নিউইয়র্ক টাইমসের সর্বশেষ জরিপে দেখা যাচ্ছে, এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের ভরাডুবি সময়ের ব্যাপার মাত্র। আরও দেড় মাস পরের নির্বাচন যদি এখনই অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ডেমোক্রেটিক পার্টি নিশ্চিত ২২৬টি কংগ্রেসনাল আসনে জয়ী হবে। হাউজে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন।
অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকানদের অবস্থা আরও খারাপ। সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা হচ্ছে ৫৩টি এবং ডেমোক্রেটদের ৪৭টি। মধ্যবর্তী নির্বাচনে মোট ২টি স্পেশাল ইলেকশনসহ মো ৩৫টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ৩৫ আসনের মধ্যে রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা হচ্ছে ২০টি। রিপাবলিকানদের এই ২০ আসনের মধ্যে ৯টিতে ডেমোক্রেটরা এগিয়ে আছে। নির্বাচনী প্রচারণায় কুশলী সাবেক প্রেসিডেন্টে বারাক ওবামা ডেমোক্রেট প্রার্থীদের
পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন। টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেনেথ প্যাক্সটন ডেমোক্রেট প্রার্থী জেমস তালারিকোর কাছে পরাজিত হতে যাচ্ছেন। । তবে টেক্সাসে ডেমোক্রেট প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও দুই প্রার্থীর মাঝে ব্যবধান খুব বেশি নয়। মিশিগানের সিনেট আসনে মুসলিম প্রার্থী ডা; আবদুল আল সাঈদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স এর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স আল সাঈদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সুইয়িং স্টেট ওহায়োতে সিনেটে ডেমোক্রেট প্রার্থী শ্যারড ব্রাইটন রিপাবলিকান প্রার্থী বর্তমান সিনেটর জন হাস্টটেড এর চেয়ে এগিয়ে আছেন।
রিপাবলিকানরা এই আসনটিও হারাতে যাচ্ছে। অন্যীদকে আরও একটি রেড স্টেট খ্যাত আলাস্কাতেও বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান ডেমোক্রেট প্রার্থী মেরি পেলটোলার কাছে হারতে যাচ্ছেন। তবে এই দুই প্রর্থীর মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। ফ্লোরিডাতে ডেমোক্রেট প্রার্থী অ্যান্ডি নিক্সনও রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যাশলে মোডির মাঝে জনপ্রিয়তার দৌড়ে অ্যান্ডি নিক্সন এগিয়ে আছেন। যদিও ফ্লোরিডা সুয়িং স্টেট থেকে এখন রেড স্টেট।
হিতে বিপরীত হতে পারে ট্রাম্পের ঘুষের প্রস্তাব
রিপাবলিকান দল যে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজিত হতে যাচ্ছে, তা আঁচ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন প্রকাশ্যে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘আসছে নির্বাচনের পর আমি প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার করে দেব। তবে শর্ত হচ্ছে যে, আসছে নির্বাচনে আপনাদেরকে কংগ্রেসের উভয় লেভেলে অর্থ্যাৎ হাউস ও সিনেটে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়ী করতে হবে।’ প্রেসিডেন্টের এ ধরনের বক্তব্যের পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র।
সমালোচকরা বলছেন যে, এটা তো রীতিমতো ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব। নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন না। অনেক সমালোচক একথাও বলেছেন যে, তার বক্তব্য আমেরিকান সংবিধানের পরিপন্থী। অনেকে বলেছেন, এ অর্থ আসবে কোথা থেকে। প্রেসিডেন্টের দল যদি জয়লাভ করে, তাহলে কি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এই অর্থ প্রদানের অনুমোদন দেবে?
মিডিয়া বলছে, নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের উর্ধগতি, জ্বালঅনি তেলের দাম দ্বিগুণ পার হয়ে যাওয়ায় অপ্রয়োজনীয় ও অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়াকে আমেরিকান মধ্যবিত্ত শ্রেণী সহ্য করতে পারছে না। তাই ভোটাররা ট্রাম্পসহ রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।