
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
গৌরবে-সৌরভে ৩৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয় প্রাঙ্গণে ‘বৈচিত্র্যের উৎসব’ শিরোনামে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে কেক কেটে ৩৭তম বর্ষের শুভ সূচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, ‘শিল্প-সংস্কৃতি-সংগ্রাম আমাদের মুক্তির অভিযাত্রা’—এই স্লোগানকে ধারণ করে ৩৭ বছর ধরে চুনারুঘাটে সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি সংস্কৃতি লালনে এই পরিষদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পর কেক কাটা শেষে শিশুদের নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ কোনো নিছক বিনোদনমূলক সংগঠন নয়; সমাজ, মানুষ, দেশ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠান। সব ধরনের অসুন্দর, অপসংস্কৃতি ও অশুভের বিরুদ্ধে তাদের সাংস্কৃতিক সংগ্রাম অবিরাম। ৩৭তম বর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে পাহাড়, সমতল ও ইতিহাসসমৃদ্ধ চুনারুঘাটের বহুমাত্রিক সংস্কৃতিকে ধারণ করে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবে চুনারুঘাটে বসবাসকারী পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মিলনের বন্ধন দৃঢ় করাই অন্যতম প্রত্যয়।
দ্বিতীয় দিন শুক্রবারের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. ফয়সল উপস্থিত থাকতে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
দ্বিতীয় পর্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে থাকবেন নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ ও পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গালিব চৌধুরী, সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দীন সামসু, হবিগঞ্জ জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আ. হাই, গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক সালেহ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিয় পাল, আমিনুল ইসলাম সুজনসহ পরিষদের উপদেষ্টা, কার্যকরী সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা।