নিউজার্সী অঙ্গরাজ্যে প্রবাসীদের ঈদ মিলনমেলা

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২২ মার্চ ২০২৬, ১২:০৬

নিউজার্সীসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলমানরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ২০ মার্চ, শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনযাত্রার মাঝেও ঈদের এই দিনটি পরিণত হয় এক অনন্য আনন্দ, আবেগ ও মিলনের উপলক্ষে।
অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও নিউজার্সীতে প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির উদ্যোগে ঈদ উদযাপন হয়েছে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও সামাজিক সম্প্রীতির আবহে। শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করেন, যা প্রবাসে এক উৎসবমুখর মিলনমেলায় রূপ নেয়।
নিউজার্সীর ফার্মিংডেল টাউনশিপের Our House Banquet Hall-এ সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় এই ঈদের জামাত। প্রবাসী মুসল্লিরা পরিবার-পরিজন নিয়ে একত্রিত হয়ে নামাজ আদায় করেন এবং এই সম্মিলিত ইবাদতের মাধ্যমে অনুভব করেন আত্মিক প্রশান্তি ও ঐক্যের বন্ধন।
জামাতে ইমামতি করেন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী ড. জাহিদ হাসান। তাঁর নেতৃত্বে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা, যা একই সঙ্গে আধ্যাত্মিকতা ও সামাজিক একাত্মতার এক সুন্দর দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
নামাজ শেষে উপস্থিত মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দীর্ঘদিন পর পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় পুরো পরিবেশটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। শিশু-কিশোরদের নতুন পোশাক, হাসি আর আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
প্রবাসে বসবাসরত অনেকেই জানান, দেশের পরিবার-স্বজনদের অভাব অনুভূত হলেও এ ধরনের কমিউনিটি আয়োজন সেই শূন্যতা অনেকটাই পূরণ করে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ঈদের নামাজ শেষে আয়োজন করা হয় সকালের নাশতার। ব্যানকুয়েট হলের মালিক জনাব রবী মাওলা প্রতি বছরের মতো এবারও উপস্থিত সবার জন্য কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্টের ব্যবস্থা করেন, যা আয়োজনকে আরও আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ করে তোলে।
এদিকে ঈদের দিনের আবহাওয়াও ছিল অত্যন্ত অনুকূলে। দিনভর আকাশে রোদ ও মেঘের মিশ্র উপস্থিতি ছিল। সকাল ও সন্ধ্যায় কিছুটা ঠান্ডা অনুভূত হলেও দুপুরের দিকে আবহাওয়া সহনীয় হয়ে ওঠে। বৃষ্টি বা তুষারপাত না থাকায় ঈদের নামাজ ও অন্যান্য কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, নিউজার্সীতে আয়োজিত এই ঈদের নামাজ শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; বরং এটি ছিল প্রবাসী বাঙালিদের জন্য একতা, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার এক অনন্য বন্ধন, যা প্রবাসে থেকেও নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে।