
অপেক্ষা, টানটান উত্তেজনা, জল্পনা-কল্পনা আর আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘোষণা করা হয়েছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফল। এবারের নির্বাচনে কোনো একটি প্যানেল পূর্ণাঙ্গভাবে জয়ী হতে পারেনি—ফলে ফলাফলে এসেছে মিশ্র চিত্র, যা ভোটারদের বিচক্ষণ রায়েরই প্রতিফলন।
সবচেয়ে আলোচিত সভাপতি পদে ১২৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন এবাদ চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহবুব চৌধুরী রনি পেয়েছেন ১ হাজার ৭০৮ ভোট এবং অপর প্রার্থী ইন্তিখাব চৌধুরী তুহিন পেয়েছেন ৮৪৮ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন রাসেল আহমদ। তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৭৭৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাবুল খান পেয়েছেন ১ হাজার ৪৪২ ভোট এবং এজাজ আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ৯৭২ ভোট।
নির্বাহী সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মেহেদি মারুফ। তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৮৪৭ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ময়নুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮৮ ভোট এবং তারেক চৌধুরী তানভীর পেয়েছেন ৯৬১ ভোট।
সহসভাপতি (সিলেট) পদে বিজয়ী হয়েছেন আব্দুল কালাম, (মৌলভীবাজার) পদে তাহমিনা চৌধুরী, (সুনামগঞ্জ) পদে আমজাদ আলি এবং (হবিগঞ্জ) পদে মো. জুবের আহমদ।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-১ পদে জয় পেয়েছেন জুয়েল আহমদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-২ পদে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন মনসুর আহমদ।
কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন হাসান তারেক ইমাম এবং সহকারী কোষাধ্যক্ষ পদে জয় পেয়েছেন ইকবাল আহমদ চৌধুরী।
সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মাহদি চৌধুরী, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক নাইম চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ফারুক আহমদ এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন আল আমিন। সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন লুতফুর রহমান।
যুব ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম ইমরান সুমন। ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. নাহিদ আহমদ এবং সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক পদে তানিম ইকবাল চৌধুরী জয় পেয়েছেন।
ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন জিয়াউল ইসলাম রিংকু এবং সহ সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন পারমিতা সেন তিন্নি।
সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে ফয়সাল আহমেদ, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে আলি হোসেন এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে সৈয়দা মকসুদা বেগম রেনু বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাহী সদস্য পদগুলোতে নির্বাচিত হয়েছেন মো. মকবুল হোসেন মঞ্জু, হোসেন আহমদ লনি, রিজওয়ান চৌধুরী এবং আবু জাহির সাকিব।
সামগ্রিক ফলাফলে দেখা গেছে, ২৯টি পদের মধ্যে রনি-মারুফ-রাসেল প্যানেল জয় পেয়েছে ২০টি পদে, আর এবাদ-ময়নুল-বাবুল প্যানেল পেয়েছে ৯টি পদ। অর্থাৎ নেতৃত্বের মূল দুটি পদ বিভক্ত হলেও পরিষদের অধিকাংশ পদে প্রাধান্য পেয়েছে রনি-মারুফ-রাসেল প্যানেল।
এ নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করলো—জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর ভোটাররা এবার কোনো একক আধিপত্য চাননি; তারা চেয়েছেন ভারসাম্য, অংশীদারিত্ব এবং নেতৃত্বে বহুমাত্রিক প্রতিনিধিত্ব।
সদ্য নির্বাচিত তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক আলি হোসেন সম্মানিত ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান তিনি কাজের মাধ্যমে দিতে চান। একইসঙ্গে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন ঘিরে ধারাবাহিক সংবাদ পরিবেশনের জন্য তিনি প্রথম আলো উত্তর আমেরিকাকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।