
টকটকে লাল, রসে ভরা বেদানা জনপ্রিয় একটি ফল। সুস্বাদু হওয়ায় ছোট-বড় সবার কাছে প্রিয় এই ফল। তবে বেদানা খাওয়ার সময় এর ছোট শক্ত বীজ নিয়ে তৈরি হয় সমস্যা। অনেকে বীজসহ গিলে ফেলেন, কেউ ফেলে দেন, আবার কেউবা চিবিয়ে খান। কিন্তু স্বাস্থ্যের বিচারে কোনটা ঠিক?
পুষ্টিবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা ও স্বাস্থ্য সাময়িকী, যেমন মেডিকেল নিউজ টুডে ও ফ্রন্টিয়ার্স ইন ফার্মাকোলজি অনুযায়ী বেদানার বীজ খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, বেদানার দানায় শুধু রসই থাকে না, এর আসল শক্তির বড় একটি অংশ লুকিয়ে রয়েছে বীজের ভেতরে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার (আঁশ), ভিটামিন-ই, ম্যাগনেসিয়াম ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
গবেষণায় দেখা গেছে, বীজে থাকা 'পিউনিসিক অ্যাসিডের' মতো বিশেষ কিছু ফ্যাটি অ্যাসিড ও পলিফেনল শরীর ও মস্তিষ্কের ভেতরের প্রদাহ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বেদানার বীজে থাকে পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে।
বীজ খাওয়ার সঠিক নিয়ম
বেদানার বীজ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। যেমন, বীজগুলো আস্ত গিলে ফেলা একেবারেই উচিত নয়। এতে পরিপাকতন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে। সবসময় দাঁত দিয়ে খুব ভালোভাবে চিবিয়ে তারপর বীজ গিলে নেওয়া উচিত।
সালাদ, টকদই কিংবা আইসক্রিমের সঙ্গে বেদানার দানা ছড়িয়ে দিলে খাবারের স্বাদ ও আকর্ষণ যেমন বেড়ে যায়, তেমনি চিবিয়ে খাওয়ার সময় বীজগুলো আলাদা তৃপ্তি দেয়।
সব পুষ্টিকর খাবারের মতোই বেদানা খাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিমাণ ক্ষতিকর। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন। অতিরিক্ত বীজ একসঙ্গে খেয়ে ফেললে তা পেটে অস্বস্তি বা হজমে গোলযোগ তৈরি করতে পারে।
ভালো বেদানা চেনার উপায়
কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, বাজারে হরেক রকমের বেদানার ভিড়ে মিষ্টি ও রসালো ফলটি বেছে নেওয়ার কিছু কৌশল রয়েছে। যেমন-
বেদানার গায়ের রং যত গাঢ় লাল হবে, সেটি তত বেশি পাকা ও মিষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আকারে ছোট বা বড় যাই হোক না কেন, দুটি সমপরিমাণ বেদানার মধ্যে যেটি হাতে নিলে তুলনামূলক ভারী মনে হবে, সেটি বেছে নেওয়া উচিত। ফলের ভারী ওজনের অর্থ হচ্ছে এতে রসের পরিমাণ বেশি।
আবার পুরোপুরি নিখুঁত গোল বা মসৃণ বেদানার চেয়ে কিছুটা চ্যাপ্টা, অসমান কিংবা কোণাকৃতির বেদানা বেশি দানাদার ও মিষ্টি হয়।