সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ

শিক্ষা ডেস্ক
  ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:১০


দেশের সব শিশুর প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবিবার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান খান আজাদ, মো. আব্দুস সালাম, মো  সাদিক রিয়াজ, মো. ইলিয়াস মোল্লা, মো. মোক্তার আলী এবং মাহফুজা হান্নান অংশ নেন। এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের উপস্থিত কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট- এসব দপ্তরের ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সম্ভাব্য অর্থবছরের খাতওয়ারী বিভাজন, বাজেট, ব্যয় পরিকল্পনা ও ব্যয় বিভাজন পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেনটেশনের মাধ্যমে কমিটির সামনে তুলে ধরা হয়।
উপস্থাপিত বাজেট ও সার্বিক বিষয়ের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা দেশের প্রতিটি শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়ন ও পরিচালন খাতে বরাদ্দকৃত বাজেট যেন শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, সে বিষয়ে জোর তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষার মাঠপর্যায়ের চিত্র সরাসরি তদারকি করতে কমিটির সব সদস্যকে একটি বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   
বিদ্যালয় চালু থাকা অবস্থায় সদস্যরা যেন সরেজমিনে গিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ও সার্বিক পরিবেশ পরিদর্শন করেন, সে বিষয়ে বৈঠকে একমত পোষণ করা হয়।
বৈঠকে কমিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সকল শূন্য পদ দ্রুত পূরণের জন্য সুপারিশ করে। প্রাথমিক শিক্ষা লেভেলে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে চালু করার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়। 
কমিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলমান ফিডিং কার্যক্রমে সঠিক কোয়ালিটি এবং শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সুপারিশ করে। একই সাথে কমিটি ফিডিং কার্যক্রমে কোয়ালিটি নিশ্চিত না হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে।