সাগরপথে ঝুঁকি কমাতে বৈধ বাংলাদেশি কর্মী নেবে গ্রিস

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১১ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩০

বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে ইউরোপের দেশ গ্রিস। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত শ্রম অভিবাসনবিষয়ক সমঝোতা স্মারক নবায়নের আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।
গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিসের সঙ্গে সম্প্রতি এক বৈঠকে এ বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা।
বৈঠকে গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিতে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা গত রোববার বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বোয়েসেল জানিয়েছে, বৈঠকে গ্রিসে বোয়েসেলের মাধ্যমে শ্রম অভিবাসন ত্বরান্বিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে নৈতিক, নিরাপদ ও ব্যয়সাশ্রয়ী উপায়ে বাংলাদেশি কর্মীদের গ্রিসে পাঠানোর প্রক্রিয়া কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা জাগো নিউজকে বলেন, বৈঠকে গ্রিক মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, আমাদের সমঝোতা স্মারক নবায়ন করা হবে, বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী আনা হবে। তবে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করা আশ্রয়প্রার্থীরা থাকার অনুমতি পাবেন না।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, আরও বেশি কর্মী আনতে বোয়েসেলের সঙ্গে কাজ করতে চান। এছাড়াও গ্রিক মন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করবেন বলেও জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে ২০২২ সালে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই সমঝোতার আওতায় বাংলাদেশ থেকে গ্রিসে কর্মী নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। নতুন করে সমঝোতা স্মারক নবায়ন হলে গ্রিসের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে গ্রিসে কৃষি, পর্যটন, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। বৈধ শ্রম অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ হলে একদিকে যেমন গ্রিসের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়বে, অন্যদিকে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতাও কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ৩০ জুলাই গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিসের সঙ্গে রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনার বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার প্রতিরোধ, বৈধ শ্রম অভিবাসন সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশিদের অনিয়মিতভাবে গ্রিসে প্রবেশের সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে একদিকে মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার, অন্যদিকে বৈধ শ্রম অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বোয়েসেলের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী গ্রিসে পাঠানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দালালচক্রের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ইউরোপে কাজের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথে যাত্রার প্রবণতা কমাতেও তা ভূমিকা রাখতে পারে।
২০২২ সালে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে স্বাক্ষরিত শ্রমবিষয়ক সমঝোতা অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার করে কর্মী নেওয়ার কথা ছিল। একই চুক্তির আওতায় গ্রিসে অবস্থানরত প্রায় ১৫ হাজার অনিয়মিত বাংলাদেশিকে বৈধতার আওতায় আনার সুযোগও রাখা হয়েছিল।
তবে বাংলাদেশে গ্রিসের নিজস্ব দূতাবাস না থাকা এবং ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য দিল্লিনির্ভর ব্যবস্থার কারণে চুক্তির বাস্তবায়ন প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। বিশেষ করে দিল্লিতে সক্রিয় দালাল সিন্ডিকেটের কারণে ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। ফলে বৈধ শ্রম অভিবাসনের সুযোগ থাকলেও অনেক বাংলাদেশি তা কাজে লাগাতে পারেননি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিসের ভিসা পাওয়া শুরু হয়েছে বলে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের কাছ থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন ধীরগতিতে থাকা বৈধ শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়া নতুন করে গতি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।